ঢাকাঃ বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের শুরু হলো ‘খালেদা জিয়া-উত্তর’ নতুন যুগ। এই নতুন যুগে দলের কা-ারি হচ্ছেন তারেক রহমান। বিগত শতকের আশির দশকে ‘জিয়াউর রহমান-উত্তর’ বিএনপির হাল ধরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে নেমে হাজারো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে তিনি ব্যক্তিগত কারিশমায় বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে জনগণের কাতারে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। মহীয়সী এই নেত্রীর ব্যক্তিত্ব আর ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের গুনে দলের পাশাপাশি হয়ে উঠেছিলেন দেশের রাজনীতির নৈতিক ভারকেন্দ্র। সবাইকে নিয়ে পথচলার আপোষহীন নেতৃত্বের মধ্যদিয়ে তিনি রাজনীতিতে হয়ে উঠেছিলেন ঐক্যের প্রতীক ও জাতির ‘নৈতিক অভিভাবক’।
বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে নতুন বছরে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির কা-ারি হিসেবে তারেক রহমানের সামনে রয়েছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন হচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বের যুগে বিএনপির রাজনীতি আগামীতে কেমন হবে? জিয়াউর রহমানের পথ ধরে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিকে গণমানুষের রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছেন। এখন তারেক রহমান কেমন করবেন? তার আগামীর রাজনীতির পথচলা কেমন হবে? জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণ নেতারা এনসিপি গঠন করে ‘নতুন বন্দবস্ত’ ঘোষণা দেয়। দল গঠনের এক বছরেও ‘নতুন বন্দবস্ত’ দিতে পারেননি। বরং পুরনো বন্দবস্তে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী গাটছড়া বেঁধেছেন। তারেক রহমান এখন কী মা খালেদা জিয়ার পথ ধরে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির ৩১ দফা নিয়ে এগিয়ে যাবেন; নাকি এনসিপি নেতাদের মতো শ্রোতে গা ভাসাবেন? অবশ্য তারেক রহমান গতকাল বলেছেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি; যেখানে আমার মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে’।
বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তার নামাজে জানাজায় মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ দেয়। তিনি বিএনপিকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের মানুষের রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছেন। পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে বিএনপির আদর্শ-নীতিকে আবশ্যক করে তুলেছেন এবং দেশের বাইরেও বিএনপি ও নিজেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্বের উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তারেক রহমান কী সে পথে হাটার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন?
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ছিল ‘বাঙালি’। কিন্তু জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শন হাজির করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন। বাংলাদেশে ৯২ ভাগ মুসলমানের বসবাস করলেও বাঙালির পাশাপাশি বহুসংখ্যক বিভিন্ন মতের ও ধর্মের জাতিগোষ্ঠী বসবাস করেন। পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মাত্রা ও ধরণ বিভিন্ন। পাহাড়িদের উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের আহবান ‘তোরা সবাই বাঙালি হয়ে যা’ আত্মঘাতি হলেও জিয়াউর রহমান সে ভুল করেননি। জিয়াউর রহমান মনে করেন যে, শুধুমাত্র ভাষা বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে নয়, বরং ভূখ-ের ভিত্তিতেই জাতীয়তাবাদ পরিচিতি হওয়া উচিত। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালি জাতিয়তাবাদ বিতর্ক চলেছে। তবে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দর্শনের কাছে শেখ মুজিবের বাঙালি জাতীয়তাবাদ দর্শন বুমেরাং হয়েছে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দর্শনের আবির্ভাবের সময় তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯ দফার রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে জাতির সামনে জিয়াউর রহমান হাজির হলে জনগণ তা লুফে নেয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দিল্লি-মস্কো-চীনপন্থীরা নড়েচড়ে বসে। তারা বিএনপির ‘ক্যান্টনমেন্টে জন্ম’ প্রচারণা চালিয়ে বিএনপির গায়ে কালিমালেপনের অপচেষ্টা করে।
কিন্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উত্তর বিএনপির কা-ারী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া রাজপথের আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বিএনপিকে জনগণের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ রাজপথের আন্দোলন খালেদা জিয়াকে দেশ ও জাতির অপরিহার্য নেত্রীতে পরিণত করে। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে জিয়াউর রহমান যেমন ডান-বাম-মধ্যপন্থী-আলেম-ওলামা-ইসলামী স্কলার-পীর-মাশায়েখসহ বিভিন্ন সেক্টরের স্বলারদের বিএনপিতে নিয়ে এসে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখেন; সে পথ ধরেই বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিকে জনগণের দলে পরিণত করেছেন। আমজনতার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় মানুষ কী চায় সেটা সহজেই খালেদা জিয়া বুঝতে পেরেছিলেন; সে জন্যই মানুষের হৃদয়ে তিনি জায়গা করে নেন। হিন্দুত্ববাদী ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা নানাভাবে বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি ঠেকানোর চেষ্টা করেছে; বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দৃঢ়তা, দেশের মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট এবং সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করার প্রবল ইচ্ছাশক্তি খালেদা জিয়াকে অপরিহার্য নেত্রীর পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এর মধ্যদিয়ে হিন্দুত্ববাদী ভারতকে খুশি করতে আওয়ামী লীগের বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনীতির করব হয়ে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণ নেতাদের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন বন্দবস্ত আলোর মুখ দেখেনি।
দলটি মধ্যপন্থী রাজনীতি করার ঘোষণা দিলেও ক্ষমতার লোভাতুরতায় তারা মওদুদীবাদী ইসলামী ধারার দল জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়েছেন। শুধু তাই নয় স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সঙ্গে নির্বাচন করায় দলটি কার্যত ‘জুলাই চেতনা’ থেকে বিচ্ছন্ন হওয়ার পথে। ফলে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যেভাবে এগিয়েছে এবং মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে তারেক রহমান সে পথে নতুন রুপে অগ্রসর হবেন সেটাই সময়ের চাওয়া। দেশে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি এবং সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে বিএনপি এখনো প্রসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি।
অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকালও বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের দর্শন দিয়ে গেছেন, খালেদা জিয়া সেই পতাকাকে তুলে ধরেছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। একইভাবে তারেক রহমান সাহেবও সেই পতাকা হাতে নিয়ে জনগণকে সঙ্গে করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, তাকে সুসংহত করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন। এটিই মানুষের প্রত্যাশা’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির নতুন কা-ারি তারেক রহমানকে কেবল জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারী হলে চলবে না; তাকে তার বাবা জিয়াউর রহমানের ‘জনগণের রাজনীতি’র আদর্শও বহন করতে হবে। মা বেগম খালেদা জিয়ার সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করার আদর্শ বহন করতে হবে। যদি তিনি তা না করেন, মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে।
তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে প্রবাসে থাকার পর ২০২৫ সালের শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরতন্ত্র বর্জনের ডাক দিয়ে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনেকটা শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার পথ ধরে চলার বার্তাই। শুধু তাই নয়, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় প্রায় কোটি লোকের অংশগ্রহণ এবং বিদেশী বিশিষ্টব্যাক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে কৃতজ্ঞতায় প্রকাশ করে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান লিখেছেন, ‘মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। আজ সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে মানুষগুলোর ভালোবাসা ও বিশ্বাস বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে, তাদের জন্যই তিনি এই পথচলা এগিয়ে নিতে চান। বেগম খালেদা জিয়া যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, সেখান থেকেই যেন দেশবাসী শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রেরণা খুঁজে পায়’।
বেগম খালেদা জিয়া প্রায় ১৯ বছর ধরে ক্ষমতা বাইরে। এই দীঘ সময়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে। পাতানো মামলায় তাকে কারাদ- দেয়া হয়েছে এবং ‘এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার’ ফেইক ট্যাগ’ দেয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শত শত কোটি টাকা খরচ করে দেশ বিদেশে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ইমেজ ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে। তারপরও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে কোটি কোটি মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা গভীর শোকাবার্তা পাঠান। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটানসহ অনেক দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিরা তার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে ছুটে আসেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে বিদেশীদের এই ঢাকায় ছুটে আসা এবং সারাদেশের কোটি মানুষের জানাজায় অংশ নেয়ার মর্যাদা খালেদা জিয়া অর্জন করেছেন যোগ্য নেতৃত্বের মধ্যদিয়ে।
খালেদা জিয়া কার্যত স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই হেঁটেছেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বলয় থেকে বেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সাথে সুসম্পর্ক গড়েন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহ হির রাহমানির রাহিম যোগ করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক-ইরান যুদ্ধ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কখনোই শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা থিউরিতে ভারত-বিরোধী ভূমিকায় যাননি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জোট সার্ক গঠনের ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। দেশ পরিচালনায় বেগম খালেদা জিয়াও সব সময় স্বামী শহীদ জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করায় রাষ্ট্রনেতা হিসেবে সফল্য দেখিয়েছেন। ফলে যারা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং যেসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের প্রতিনিধিরা ঢাকায় ছুড়ে এসে বেগম জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন; সে পথ ধরেই তারেক রহমানকে পররাষ্ট্রনীতি ও নেতৃত্বের বাতায়ন গড়তে হবে।
বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দেশের সবচেয়ে বড় দল। আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় বিএনপির সমপর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি নেই। তারপরও নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে এসেছে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ দেড় যুগ পর জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অনুষ্ঠিতব্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন তার নেতৃত্বের প্রথম পরীক্ষা। আওয়ামী লীগ না থাকায় এবারের নির্বাচনি সমীকরণ ভিন্ন। বিএনপিকে এখন লড়তে হচ্ছে এনজিও কাম রাজনৈতিক দল জামায়াত এবং ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ নেতাদের গড়া এনসিপি’র মতো নতুন শক্তির বিরুদ্ধে। এই প্রতিযোগিতামূলক মাঠে বিএনপিকে বিজয়ী করে আনাই হবে তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের মতোই তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় শৃংখলা বজায় রাখা আবশ্যক। কয়েকটি দলকে নিয়ে তিনি নির্বাচনী জোট করেছেন; কিন্তু দলের কিছু নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মোকাবিলা করে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মধ্যদিয়ে সরকার গঠন করতে হবে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরায় এক সাপ্তাহের মধ্যেই খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় দলের সব দায়িত্ব পড়েছে তারেক রহমানের উপর। নতুন বছরের এই সূচনালগ্নে অভিভাবক খালেদা জিয়াবিহীন বিএনপিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হোক তারেক রহমানের মূল রাজনৈতিক মিশন।


