ঢাকাঃ আসন্ন জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কুমিল্লার ৯ জন নারী নেত্রী সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম উম্মে সালমা ডরোথি।
উম্মে সালমা ডরোথির জন্ম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানায়। তিনি শশীদল ইউনিয়নের চৌব্বাস গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের কন্যা। উনার বড়চাচা একজন ভাষা সৈনিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর পারিবারিক পটভূমি দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
বর্তমানে তিনি জিয়া সাইবার ফোর্স (জেডসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ওমান শাখার সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকার অংশ হিসেবে তিনি জুলাই ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী হিসেবেও পরিচিত। এছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র তাহসিন বাহার সূচনার উদ্যোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা এবং ৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়।
সবমিলিয়ে, উম্মে সালমা ডরোথি কুমিল্লার সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে আলোচিত ও সক্রিয় একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন—অ্যাডভোকেট ডালিয়া রহমান, শামীমা আক্তার রুবী, দিলারা শিরিন, সাকিনা বেগম, অ্যাডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, শাহনাজ আক্তার, রায়হান রহমান হেলেন এবং সামিরা আজিম দোলা । এদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া জানান, নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে দলের অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। তারা দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তবে তাদের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে যোগ্যরাই সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন তারা।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০টি। এর মধ্যে বিএনপির জন্য ৩৬টি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।



