জিয়াউর রহমানের পরিবার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ : জাতীয় সংসদ

19

 

ঢাকা: রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জিয়া পরিবারকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই।

তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— এই জিয়া পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ফলে, এই পরিবার জাতির ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

জাতীয় সংসদে আজ ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

গাজীপুর-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক মোড় ঘোরানো ঘটনায় জিয়া পরিবার— শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

 

 

তিনি বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জিয়া পরিবারের অবদানের জন্য পুরো জাতি ঋণী।

তিনি আরো বলেন, রাজনীতি থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করলে তা চেঙ্গিস খানের যুগের মতো হয়ে যাবে। একইভাবে, জিয়া পরিবারের অবদান অস্বীকার করলে বাংলাদেশের ইতিহাস অর্থহীন বা ভাসা-ভাসা হয়ে যাবে।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিলন বলেন, জুলাই সনদ কোনো কথার রাজনীতি নয়, বরং এটি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে, তা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেই করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধীদলকে ওয়াকআউট না করে সংসদে বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি দ্বারা সৃষ্ট নয়; এটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অবদান। তাই সংসদের বিরোধীদলের উচিত— গুজবে কান না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।

পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।

মোট ১৮ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন এবং তারা নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামোগত চাহিদাসহ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সরকারের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যৌথভাবে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কাজ করবেন।

রাষ্ট্রপতির ১৬ পৃষ্ঠার ভাষণকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেছেন এবং পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনাও স্বীকার করেছেন।

বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে জামালপুর-৪ এর ফারিদুল কবির তালুকদার, চট্টগ্রাম-৯ এর এম আবু সুফিয়ান, টাঙ্গাইল-৪ এর মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ এর আবুল কালাম, কুমিল্লা-৫ এর জসিম উদ্দিন, দিনাজপুর-৪ এর আখতারুজ্জামান মিয়া, লালমনিরহাট-১ এর এম হাসান রাজিব প্রধান, সুনামগঞ্জ-৪ এর নুরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ এর আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৭ এর হামিদুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এর এম এ হান্নান, জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া-২ এর আব্দুল গফুর, নীলফামারী-১ এর আব্দুস সাত্তার, রংপুর-১ এর রায়হান সিরাজী এবং মাদারীপুর-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালাও আলোচনায় অংশ নেন।

সংসদ সদস্যরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।