ঢাকাঃ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি জোট গঠনেরও উদ্যোগ নেয় জামায়াত। কিন্তু এই উদ্যোগের শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় দলটিকে। জামায়াতের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা ছিল ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্য কিছু সাধারণ দলও তাদের সঙ্গে নির্বাচনি জোটে আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে সাধারণ দল দূরে থাক ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোও জামায়াতের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না
এদিকে জোট গঠনের লক্ষ্যে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পর আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু নিজস্ব এই জোটে গণপরিষদের যুক্ত হওয়ার কোনো মত দেয়নি। এছাড়া ভেঙে দেওয়ার ২০ দলীয় জোট শরীকদের মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের চেষ্টা চালায় জামায়াত, ওই দলগুলোর পক্ষ থেকেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে যে বিশাল জোট গঠনের টার্গেটে ছিল জামায়াতে ইসলামীর তা আপাতত পূরণ হচ্ছে না। ফলে ভোটের মাঠে অনেকটা একাই চলতে হচ্ছে ইসলামপন্থী এই দলটিকে।
২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০০০ সালে গঠিত হয়েছিল ৪ দলীয় জোট। ওই জোটের শীর্ষ নেতা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান আল্লামা আজিজুল হক ছিলেন চার দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা। মাঝ পথে জোট ছেড়ে দেন এরশাদ, তখন তার দলের তৎকালীন মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জু বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি গঠন করে চারদলীয় জোটে থেকে যান।
এই জোট একসঙ্গে নির্বাচন ও সরকার গঠন করে। এরপর ক্ষমতা হারালেও চার দলীয় জোটের পরিধি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে রূপ নেয় ২০ দলীয় জোটে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এই জোট। পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে ২০২২ সালে এই জোট ভেঙে গেছে বলে জানানো হয়। ২০০০ সাল থেকে ২০২২ সাল, দীর্ঘ এই ২২ বছর রাজপথে একসঙ্গে পথ চলেছে বিএনপি-জামায়াত। দীর্ঘ দিনের এই রাজনৈতিক মিত্র দু’টি দল এখন বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।



