বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে প্রচার করেছে আওয়ামী লীগ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন

171

অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০২৩ সালে ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তবে, আওয়ামী লীগ সরকার প্রায়ই রাজনৈতিক বিরোধীদের কার্যক্রমকে ‘সন্ত্রাসবাদে’র সঙ্গে মিলিয়ে প্রচার করেছে।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর একটা অংশের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে।

এতে আরও বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য জঙ্গিদের, বিশেষ করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আল-কায়েদার সহযোগী গোষ্ঠী) এবং নব্য জেএমবির (আইএসআইএসের সহযোগী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) হামলায় তিন সেনা নিহত হন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে অনলাইনে উগ্রবাদ উদ্বেগের বিষয় বলেও উল্লেখ করা হয়। ডিসেম্বরে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী হিযবুত-তাহরীরের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইন সম্মেলনের অভিযোগ ছিল।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকার বিতর্কিত ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করে, যার মাধ্যমে অনলাইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশ কিছুটা এগিয়ে থাকে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহিংসতার বিষয়ে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহিংসতার ঘটনা এখনো উদ্বেগের বিষয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যাতে সন্ত্রাসবাদী হামলার ক্ষেত্রে জড়ানো না হয়, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ অভিযানও চালাচ্ছে। তবে ২০২৩ সালে রোহিঙ্গা শিবির থেকে সন্ত্রাসবাদী কোনো হুমকি পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে আর্থিক সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি জোটে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট এডমন্ট গ্রুপের সদস্য। ২০২৩ সালে এ নিয়ে বাংলাদেশে উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।