এক যুগ পর সেনাকুঞ্জে খালেদা জিয়া : যার হাসিতে হেসে উঠেছে বাংলাদেশ

159

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে হেটেছেন দেশের মাঠ-ঘাট, পথে প্রান্তরে। ছুটে বেড়িয়েছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আপামর জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভূষিত হয়েছে আপোষহীন নেত্রী এবং হয়ে উঠেছেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীতে।

 

May be an image of ৩ people and dais

facebook sharing button
ঢাকাঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিগত ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই নেত্রীই হয়েছেন সবচেয়ে বেশি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। প্রথম দফায় ১/১১’র ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীন সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী শাসনামলে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় কারাবন্দী এবং সাজা দেয়া হয়েছে। কেবল সাজাই নয়, কারাগারে রাখা হয় অমানবিক পরিবেশে, দেয়া হয়নি চিকিৎসার মৌলিক সুযোগটুকুও। বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় দেশের মানুষের কাছ থেকে। স্বৈরচারী শেখ হাসিনা ও তার সরকার হয়তো বেগম খালেদা জিয়া অধ্যায়ের শেষই ভেবে নিয়েছিলেন। অথচ ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর বদলে গেছে পুরো চিত্রই। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন মিথ্যা-সাজানো মামলার সাজা থেকে। সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উন্নত চিকিৎসার।
এরই ধারাবাহিকতায় এক যুগ পর গতকাল বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাকুঞ্জে উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার বাসভবন ফিরোজা থেকে বের হয়ে সেনাকুঞ্জে পৌঁছানো এবং অনুষ্ঠানে অবস্থানকালে বেগম খালেদা জিয়ার হাস্যোজ্জ্বল কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর তা দেখেই যেন হাসি ফুটে উঠে গোটা বাংলাদেশে। বিকেলের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়েই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার সেসব ছবি। দীর্ঘদিন পর দেশের জনপ্রিয় নেত্রীর হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখে শুকরিয়া আদায় করেছেন প্রায় সকলেই, কামনা করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা।

জাহিদ হাসান জনি নামে একজন বেগম জিয়ার ছবির সাথে সূরা: আল-ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন- ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন।’ এ এইচ এম নিলয় ছবি দিয়ে লিখেছেন- বাংলাদেশ হাসছে। বিটিআরসির সাবেক সচিব সরোয়ার আলম লিখেছেন, এক অসাধারণ দৃশ্য। কয়মাস আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি! স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের দিনটি, অনুষ্ঠানটি অনন্যসাধারণ, ঐতিহাসিক। একাধিক সরকার প্রধানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি থাকার সুবাদে বেশ ক’বার ঐ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আজকের মতো অভ‚তপূর্ব দৃশ্য কখনো দেখিনি। এ এক আল্লাহর অসীম নেয়ামত। ফ্যাসিস্ট সরকার টিকে থাকলে বর্তমান ও প্রাক্তন সরকার প্রধানদ্বয়ের অবস্থান কোথায় থাকতো? আল্লাহর ইশারায় ছাত্র-জনতার আত্মাহুতিতে পুরো দৃশ্যের ৩৬০ ডিগ্রি পরিবর্তন ঘটেছে।

অনুষ্ঠান সমাপনীতে জাতীয় সঙ্গীতের মিউজিক যখন বাজছিল: আমি নিশ্চিত মঞ্চে দাঁড়ানো প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্যারের মন স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লæত হয়েছিল। একইভাবে ম্যাডাম খালেদা জিয়াও অতীতকে স্মরণ করে আপ্লæত হয়েছেন! সঙ্গে কেঁদেছে দেশবাসী। শোকর আলহামদুলিল্লাহ। এই গৌরব অটুট থাকুক। দেশে একতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্মান ও জাতীয় গৌরবের এমন দৃশ্যই যাতে দেশের মানসপটে নিয়মিত ও সাধারণ ঘটনা হয়– আজ এটাই প্রার্থনা।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে নিজের সাদা গাড়িতে চড়ে সেনানিবাসের উদ্দেশে রওনা হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার গাড়ির সামনে ছিল মিলিটারি পুলিশের (এমপি) পাইলট কার, পেছনে সেনাবাহিনীর একটি অ্যাম্বুলেন্স। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ছিলেন।

বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে পৌঁছান। খালেদা জিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় রাস্তায় জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা পুরো এলাকা ¯েøাগানে ¯েøাগানে মুখর করে তোলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছালে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাকে অভ্যর্থনা জানান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হুইল চেয়ারে বসে অনুষ্ঠানস্থলে যান।

অনুষ্ঠানস্থলে খালেদা জিয়ার বসার ব্যবস্থা হয়েছিল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশের আসনে। খালেদা জিয়া তার আসনে বসার পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অসুস্থতার মধ্যেও সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানান প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তাদের দুজনকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কুশল বিনিময় : সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ সময় ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভ‚ঁইয়া এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বিএনপি চেয়ারপারসন জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। কুশল বিনিময় শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভ‚ঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে তিনটি ছবি শেয়ার দিয়ে লেখেন, ‘আপনাকে এই সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০১৮ সালের পর প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি সর্বশেষ সিলেট সফর করেন। আর সর্বশেষ ২০১২ সালে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া, তখন তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। এরপর আর তাকে সেনাকুঞ্জের এ আয়োজনে দেখা যায়নি।

এবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির ২৬ নেতাকে সেনাকুঞ্জে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে কেঁদে ফেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

sharethis sharing button

 

বেগম খালেদা জিয়াকে পেয়ে সেনাকুঞ্জ গর্বিত : প্রধান উপদেষ্টা

messenger sharing button
copy sharing button

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দীর্ঘ এক যুগ পর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পেয়ে সেনাকুঞ্জ গর্বিত। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে এসেছেন। একযুগ তিনি আসার সুযোগ পাননি। আমরা গর্বিত এই সুযোগ দিতে পেরে। দীর্ঘ দিনের অসুস্থতা সত্তে¡ও বিশেষ দিনে সবার সঙ্গে শরিক হওয়ার জন্য আপনাকে (বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে) আবারও ধন্যবাদ। আপনার আশু রোগমুক্তি কামনা করছি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ আগত সকল অতিথির আকর্ষণ ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অনুষ্ঠানে পাশাপাশি সোফায় বসা খালেদা জিয়া ও ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে আলাপচারিতা করতে দেখা গেছে। এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে রওনা দিয়ে পৌনে ৪টার দিকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছান।
এদিকে এর আগে সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যহীন, শোষণহীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের যে স্বপ্ন নিয়ে রাষ্ট্রকে স্বাধীন করেছিলেন, আমি তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা এখন থেকে বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়তে চাই যেখানে সত্যিকার অর্থে জনগণই হবে সকল ক্ষমতার মালিক।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছি। এ নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সকল মানুষকে এক বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করা। কেউ কারো ওপরে না, আবার কেউ কারো নিচেও না; এই ধারনা আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

বিশ্ব দরবারে মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে সমাদৃত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা। জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনীতি সুসংহতকরণে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ফলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচিতি লাভ করেছে। দেশ স্বাধীন করার মহান ব্রত নিয়ে ‘৭১ এর ২৫ মার্চ কাল রাত থেকে বাঙ্গালী সেনারা সেনানিবাস ত্যাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সাথে এই দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতা সাধারণ মানুষ সকলেই যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। পরবর্তীতে যা একটি জনযুদ্ধে রূপ নেয়। আমাদের মা বোনেরা মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ বিভিন্নভাবে যুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন।

সরকার প্রধান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সকল বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে সাংগঠনিক রুপ দেয়া হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। মাত্র ২টি গান বোট ‘পদ্মা› ও ‹পলাশ› নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জলপথে যুদ্ধ শুরু করে। এছাড়াও পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি সাবমেরিনার এবং নাবিকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা অকুতোভয় নৌ কমান্ডোদল ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন নদী বন্দরে খাদ্য ও রসদ বোঝাই শত্রæ জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘কিলো ফ্লাইট’ চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের জ্বালানি ডিপোসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল অভিযান পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর এই অবদানকে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভ‚ত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর পালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস।

প্রফেসর ড. ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্য এবং বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ সূচনা করে। সেই আক্রমণের ফলে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করি।

স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সকল বীর শহিদদের এবং মহান আল্লাহর দরবারে আমি তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আমি সকল শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং সম্মানিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের এই আয়োজনে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে যে সকল খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীগণ উপস্থিত আছেন তাদের জন্যেও রইল আমার বিনীত শ্রদ্ধা।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা চলমান রয়েছে। সময়ের আবর্তে অধিকাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা আজ বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্যাপনকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যে উদ্যোগ প্রতিবছর নিচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

ড. ইউনূস বলেন, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে স¤প্রতি আমরা অর্জন করেছি, সেটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যত গড়তে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ, আহত এবং জীবিত ছাত্র জনতার কাছে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে চাই। যে সুযোগ তারা আমাদেরকে দিয়েছে তার মাধ্যমে আমাদের দেশকে পৃথিবীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশে পরিণত করতে আমরা শপথ নিয়েছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের কল্যাণার্থে যা কিছু প্রয়োজন তা করার জন্য আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ী এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে।