পরিশেষে দায়িত্বে ফিরেছে পুলিশ

187

ঢাকাঃ আন্দোলন-সহিংসতার জেরে এক সপ্তাহ অচলাবস্থার পর রাজধানীর সড়কে কাজে ফিরেছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া বিভিন্ন থানাতেও কাজ শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা৷

প্রায় এক সপ্তাহ কর্মবিরতির পর, সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা।

গত কয়েকদিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে শিক্ষার্থীদের। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সোমবার তাদের কাছ থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছেন।

সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ধানমন্ডি, শাহবাগ, ফার্মগেট, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও মালিবাগ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আনিসুর রহমান বলেন, ট্রাফিক পুলিশ কাজে ফিরেছে এটা নগরবাসীর জন্য স্বস্তির। গত কয়েকদিনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে দারুণ কাজ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এটি বেশিদিন চলতে পারে না। এটি তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো।

বিগত দিনগুলোতে, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আনসার সদস্যদের সহায়তা করতে দেখা গেছে।

ছাত্র আন্দোলনের মুখে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এরপর থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কর্মবিরতিতে যান পুলিশ সদস্যরা।

রবিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন পুলিশকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে ফিরতে বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যারা কাজে ফিরবেন না, তারা কাজে অনিচ্ছুক বলে ধরে নেয়া হবে।

এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে সারাদেশে ৬৩৯ টি থানার মধ্যে ৫৯৯টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকার ১১০ টি থানার মধ্যে ৯৭ টি এবং জেলার ৫২৯টি থানার মধ্যে ৫০২ টি থানা সচল রয়েছে।

 

প্রায় এক সপ্তাহ কর্মবিরতির পর ঢাকার বিভিন্ন সড়কে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে ট্রাফিক পুলিশ। ১২ আগস্ট, ২০২৪।
রাজধানীর সড়কে কাজে ফিরেছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা

সোমবার সকালে রাজধানীর বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেইট এবং মহাখালীতে ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

কোনো কোনো জায়গায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা এখনও আছেন। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় তাদের সংখ্যা কম।

এর আগে, রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা। তারপর সমন্বয়ক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল শোয়াইব হাসান আন্দোলন প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন।

থানায় কাজে ফিরেছেন পুলিশ সদস্যরা
থানায় কাজে ফিরেছেন পুলিশ সদস্যরা

ডিডাব্লিউর কনটেন্ট পার্টনার দ্য ডেইলি স্টারকে তারা বলেছেন, ‘সরকারের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছিলাম তার বেশিরভাগই মেনে নেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি সবাই সুন্দরভাবে নিজদের দায়িত্বে ফিরবেন।’

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মশিউর রহমান, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম, বিজিবির মহাপরিচালক, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-সহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে আন্দোলনকারী পুলিশ কর্মীদের বলা হয়, তাদের কিছু দাবি খুব কম সময়ের মধ্যে মানা হবে। কিছু দাবি দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে মানা হবে। পুলিশের উপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা পুলিশ কর্তাদের জানাতে হবে। পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগো বদলের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

ঢাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা

উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, ”পুলিশ কর্মীরা যে দাবিদাওয়া পেশ করেছে, সেগুলো যৌক্তিক। তাই আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমরা স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে তাদের দাবিগুলো মেনে নেব। কিছু দাবি আমরা এখনই মেনে নেব।”’

আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল, পুলিশ কর্মী ও পুলিশি স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, পুলিশের নিয়োগ বিধিমালা বিশেষত সাব-ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট নিয়োগ পিএসসির অধীনে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অধীনে কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে ইত্যাদি।