তৌহিদ হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরিতে ৩০ রানের লিডে বাংলাদেশ

12

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের হয়ে একাই যেন প্রতিরোধের নাম তাওহীদ। নিজের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দুইশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ব্যাটার। অথচ এই ম্যাচের আগে চার ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫৪ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারে কোনো হাফ সেঞ্চুরিও ছিল না। সেই তাওহীদই এবার খেললেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস।

হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরিতে লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ
টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে গড়লেন ইতিহাস।  প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবলে পরিণত করলেন তিনি।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, স্পোর্টসঃ প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। দ্রুত ফিরে যান দুই ওপেনার। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের সকালে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তাওহীদ। তবে মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর আবারও ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

 

এক প্রান্তে উইকেটের পতন, অন্য প্রান্তে অটল তাওহীদ হৃদয়। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝেও একাই বুক চিতিয়ে লড়লেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরিতে। তার ব্যাটে ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এই লিড এনে দেওয়ার মূল কারিগর হৃদয়।দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। 

আগের দিন অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়ের ওপরই ছিল দলের বড় ভরসা। তবে দিনের শুরুতেই ব্যক্তিগত ৩৪ রানে (৭৬ বল) মুশফিকের বিদায়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে যান হৃদয়।অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৮ রান। লিটন দাস ৮ রান করে ফিরে যান। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ১৬ রান। হাসান মাহমুদ ১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম ২২ এবং তাসকিন আহমেদ ১২ রান যোগ করেন। সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।একদিকে যখন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস, অন্যদিকে তখন নিজের ইনিংসকে আরও বড় করেছেন হৃদয়। নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এবং শেষ উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে লিডের পথে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের হারানোর পরও অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার।

৩৫৯ বলের মোকাবিলায় ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। তার ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা আর আক্রমণাত্মক শটের দারুণ সমন্বয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেও নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে লিখিয়েছেন তিনি। মুশফিক, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন হৃদয়ের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ৪১ ওভার বল করে ১০৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। জয়ডেন সিলসের শিকার দুটি উইকেট। এ ছাড়া শামার জোসেফ, জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজ একটি করে উইকেট পান।