দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে: তারেক রহমান

11

শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’ ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।’ ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট  যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে: তারেক রহমান
কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না :প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা: দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যেকোনো মূল্যে রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো চক্রান্তই এ দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

একই সঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে নেতৃত্ব দিয়ে পল্টন থেকে পায়ে হেঁটে সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখানে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‍্যালিটি শুরু হয়।

 

র‍্যালিটি নয়াপল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও কারওয়ান বাজার প্রদক্ষিণ করে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংসদ ভবন এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়েই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

 

দীর্ঘ এই র‍্যালির পুরো পথেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমানউল্লাহ আমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

র‍্যালি শেষে সংসদ ভবন এলাকায় একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণের জন্য এখনো বিভিন্ন মহলে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। তবে এ দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ অতীতে যেভাবে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছে, তেমনি বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোনো অপচেষ্টাও ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।

চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত  প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।

নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।’

প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন।

 

সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থেকেও প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার বলয় ভেঙে রাজপথে হাজারো জনতাকে সাথে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাত কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি মিশে গেলেন জনতার কাতারে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিকেল সাড়ে ৩টায় র‌্যালির সূচনা করে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ নেতাকর্মী ও মানুষের সঙ্গে এভাবে দীর্ঘ পথ হাঁটার ঘটনা র‌্যালিতে সৃষ্টি করে এক ভিন্ন আবহ।

 

ছবি : বাসস

 

র‌্যালি চলাকালে প্রধানমন্ত্রীকে এক ঝলক দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। পথের পাশের উঁচু ভবনগুলোর জানালা ও ছাদ থেকেও নারী-পুরুষ ও শিশুদের হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হাস্যোজ্জ্বল মুখে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

র‌্যালির পুরো পথ তিনি স্বাভাবিক গতিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে অতিক্রম করেন।

র‌্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাসভবন সংলগ্ন সড়ক, রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ প্রসঙ্গে বাসসকে বলেন, ‘এভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীর পুরো র‌্যালিতে হেঁটে অংশ নেওয়ার দৃশ্য বাংলাদেশে নজিরবিহীন। গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণের অভিযাত্রায় এ দৃশ্য দেশবাসীকে উজ্জীবিত করবে বলে আমি মনে করি। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচিতে গিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক।

 

ছবি : বাসস

 

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে উঠে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

র‌্যালিকে কেন্দ্র করে দুপুর ১২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় জনসমুদ্রের।

র‌্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরে র‌্যালিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা পুরো আয়োজনকে বর্ণিল করে তোলে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ লন্ডনে অবস্থানের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন জনসভা ও রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিলেও বিএনপির দলীয় র‌্যালিতে তাঁর এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।