বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পোশাক রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

দেশের পোশাক খাতের এই ইতিবাচক ধারা এবং চলমান সংকটের মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েজের সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, ‘মাসিক হিসাবে প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হলেও, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ধারা টিকিয়ে রাখতে এটিকে নিয়মিত মেইনটেইন করে যেতে হবে। জ্বালানি সংকটসহ অতীতে যে ধরনের তীব্র চ্যালেঞ্জ বা জ্বালানির সংকট ছিল, তা এখন আর নেই; ফলে অন্যান্য সহযোগিতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। শুধু সংখ্যাগত বা অংকের হিসেবে প্রবৃদ্ধি বাড়লেই হবে না, উৎপাদন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা আসছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি তখনই সম্ভব যখন তা টেকসই মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।’
তৈরি পোশাক শিল্পের অপর খাত নিট তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, আগস্টে সম্পূর্ণ মাস জ্বালানি সংকটে থাকলেও সেপ্টেম্বরের এই রপ্তানির প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বেশিরভাগ কারখানা সংকটে থাকার পরেও নিশ্চয় কেউ কেউ নিজ দক্ষতায় অতিরিক্ত রপ্তানি করার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা ধরে রাখতে এবং তৈরি পোশাক খাতের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যথাযথ নীতিসহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পোশাক খাত ভবিষ্যতে আরও বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে।



