ঢাকাঃ একজন অনুপ্রেরণাদায়ক বাংলাদেশি পথিকৃৎ মুহাম্মদ এ কাদের ভূঁইয়া। ১৯৮৬ সালে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লগনাসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ কাদের। বৈদ্যুতিক সংযোগ, নিরাপদ পানীয় জল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাবিহীন পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই মানুষটির জীবন শুরু হয় চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে। তবে প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি আজ একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পথিকৃৎ। শিক্ষা, স্বপ্ন এবং সংকল্পের জোরে তার এই অসাধারণ যাত্রা বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
কাদেরের শিক্ষাজীবনের শুরু কপাস্তলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। অভাব-অনটনের মাঝেও পড়াশোনার প্রতি তার অদম্য আগ্রহ তাকে পৌঁছে দেয় ঢাকার ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুল ও পরে ঢাকা সিটি কলেজে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ লাভ করেন তিনি—যা তার জীবনের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। হার্ভার্ডে পড়াশোনা কাদেরের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশ্বদর্শনে রূপান্তরিত করে।
তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের অবদান। পিতা মোহাম্মদ রশিদ, মাতা শিরিন আক্তার এবং নানু আ. ক. আজিম আলীর কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। স্ত্রী সিফা ভূঁইয়া এবং কন্যা কায়ী কাদের তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২০১৭ সালের মধ্যে কাদের হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা নেতা। তার “আই অ্যাম বাংলাদেশ” ক্যাম্পেইন বাংলাদেশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে। ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি ৩৫টি দেশ ভ্রমণ করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বাজার সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে তার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় “রিবিল্ড বেটার বাংলাদেশ সামিট”—যা তাকে সরকারের অন্যতম কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
সেই বছরই বাংলাদেশ দিবসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামসকে ঐতিহ্যবাহী উপহার প্রদান করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত করতে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেন।
২০২৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের “বিজনেস এলিট ৪০ আন্ডার ৪০” পুরস্কারে ভূষিত হন এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক প্রেসিডেন্ট লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পপুলার গ্রুপ বর্তমানে ৩৫টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে ১২০০ জনের বেশি কর্মী নিয়োজিত। হেলথকেয়ার থেকে শুরু করে সফটওয়্যার, শিপিং, গার্মেন্টস ও ট্রেডিং—বিভিন্ন খাতে তার সাফল্য বিস্ময়কর।
তার পরিচালিত অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। তিনি নিউইয়র্কে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য AI-চালিত ‘ডুয়াল স্ন্যাপ হেলথ প্রোগ্রাম’ চালু করার পরিকল্পনা করছেন।
বাংলাদেশে ছয়টি নার্সিং স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা তার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এতে করে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি নার্সদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে মোহাম্মদ কাদেরের জীবন কেবল একটি গল্প নয়, এটি একটি জাতির আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক।


