বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ, ভারতের বন্ধুত্বের মুখোশ

53

নিউজ ডেস্কঃ  বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান মুসলমান ধর্মের হওয়ায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভারতের সর্বশেষ শিকারে পরিণত হয়েছেন। তাই টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। , ‘আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরা বেশি আপন’ হলো গ্রাম্য প্রবাদ। প্রতিবেশীরা সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, আত্মীয়রা দূরে। এ বাস্তবতায় বলা হয় ‘আত্মীয় বদল করা যায় কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না’। প্রশ্ন হচ্ছে তথাকথিত বড় দেশ হিন্দুত্ববাদী ভারত কী ৫৫ বছরেও বাংলাদেশের বন্ধু হতে পেরেছে? ভারত এমন একটি দেশ যার সঙ্গে কোনো প্রতিবেশী দেশের সুসম্পর্ক নেই। লেন্দুপ দর্জির মতো ফ্যাসিস্ট হাসিনার মাধ্যমে সিকিমের মতো বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে ভারত কী শত্রু রাষ্ট্রের পথে হাঁটছে? ভারতের নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ করছে।

facebook sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button

 

চব্বিশ ঘণ্টা আগেও সবকিছু ঠিকই ছিল। এমনকি গতকাল দুপুরে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের জন্য ১৫ সদস্যের দলও ঘোষনা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে ভারত সরকারের নির্দেশে আইপিএল দল কোলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর ঘটে যাওয়া ঘটনাক্রমের সর্বশেষ অবস্থা, টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। গতকাল দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালককে নিয়ে হওয়া সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাৎক্ষনিক যাগাযোগ করা হলে বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন ফাহিম বলেন, ‘আলাদা করে কাউকে বলতে চাচ্ছি না। খুব দ্রুতই একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আগের রাতেও ব্যাপারটি নিয়ে বোর্ড পরিচালকদের আলোচনা হয়েছিল। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আইসিসিতে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হবে। খুব কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পক্ষেই মত ছিল বোর্ড পরিচালকদের। তবে সরকারের কঠোর অবস্থানের পর বিসিবির সিদ্ধান্ত বদলে যায় বলে জানা গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তারা। বিকেলে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় ভারত ও শ্রীলঙ্কার হতে যাওয়া আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টার কিছু ঘটনাবলি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো খেলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বোর্ড পরিচালকেরা। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো সংশয় তৈরি হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ আমলে নিয়ে বোর্ড এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, বর্তমান অবস্থায় জাতীয় দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত পাঠানো হবে না।

এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিসিবি এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের আয়োজক কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে ভারতের মাটিতে নির্ধারিত বাংলাদেশের সব ম্যাচ অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ড মনে করছে, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। বিসিবি আশা করছে, আইসিসি পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। বিসিবির এমন সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশের লাখো-কোটি ক্রীড়ামোদী। তাদের এই পদক্ষেপকে ভারতের ‘দাদাগিরি’র সমুচিত জবাবও বলছেন অনেকেই। তাদেরই একজন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি সিদ্ধান্তটি নিশ্চিতের পাশাপাশি লেখেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ (গতকাল) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির প্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের জের ধরে এই সিদ্ধান্ত এলো। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া বাংলাদেশের পেসারকে দল থেকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় ভারতীয় বোর্ড বিসিসিআই। সাম্প্রতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত বলে জানান ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পরে দল থেকে ছেড়ে দেয় মুস্তাফিজকে। এরপরই প্রশ্ন উঠতে থাকে, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য কতটা নিরাপদ। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, ‘বোর্ড যেন (আইসিসিকে) জানিয়ে দেয় যে, যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারে না। বোর্ড থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনাও আমি দিয়েছি।’ গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ও এর আগে এশিয়া কাপে ভারতীয় দল পাকিস্তান সফরে যায়নি বলে এখন পাকিস্তান দলও ভারতে খেলতে যায় না। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ তাই রাখা হয়েছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায়।

এই ঘটনা কি এখানেই শেষ হবে বলে মনে করছেন না কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন, এই ঘটনা খেলাধুলাকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করা এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির লক্ষ্য বস্তুতে মুস্তাফিজের পরিণত হওয়ার ফল, যার নেপথ্যে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের চরম অবনতি। তার প্রমাণ মেলে গত বেশ কিছু দিনর ঘটনাক্রম লক্ষ্য করলে-

 

নিলামে কাড়াকাড়ি, হঠাৎ বাদ দেওয়ার নির্দেশ

উপমহাদেশকে ঘিরে যে ক্রিকেট-বিশ্ব ঘুরপাক খায়, যার মূল অর্থনৈতিক বাজার এই অঞ্চলেই, সেই ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় লিগ আইপিএল। গত মাসে অনুষ্ঠিত আইপিএলের নিলামে মোস্তাফিজকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছিল। বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাঁকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিসিসিআই এই তারকাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

খেলার মাঠে রাজনীতি

এমন তর্কবিতর্ক নিয়মিত চললেও খেলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা আদৌ সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে আবারও। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের সরকারি দল বিজেপির নেতা ও হিন্দুত্ববাদী ধর্মগুরুরা। তাঁদের কারও কারও মতে, এই সিদ্ধান্ত পুরো ভারতের হিন্দুদের জয়। মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর থেকেই আলোচনা তৈরি হয়েছিল যে তিনি আদৌ এবারের আইপিএলে খেলতে পারবেন কি না। হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠন ও নেতাদের পক্ষ থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠেছিল। এমনকি মুস্তাফিজকে বাদ না দিলে খেলার পিচ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় বিজেপি নেতাদের কাছ থেকে শাহরুখ খানকে ‘গাদ্দার’ তকমাও শুনতে হয়েছে।

 

ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটে বিজেপি-ভিএইচপি’র থাবা, বাংলাদেশে কর্মরত বৈধ-অবৈধ ভারতীয়দের সনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর দাবি, বাবরী মসজিদের পর মুসলমানদের নিদর্শন মুঁছে ফেলতে জ্ঞানপাপি মসজিদ ও তাজমহল ধ্বংসের চক্রান্ত, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভারতের সাধারণ হিন্দুদের ক্ষেপিয়ে তুলতে মারাঠি ‘ছাভা’ সিনেমা নির্মাণ, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচার ও প্রচারণার না করার আহবান, শশী থারুর প্রশ্ন : বিসিসিআই মোস্তাফিজের বদলে লিটন দাস-সৌম্য সরকার হলে বাদ দিতো?

কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতির ফল

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খেলার সঙ্গে রাজনীতির এই মিশেল ভারত-বাংলাদেশের অবনতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেরই প্রতিচ্ছবি। এই নির্দেশ কেন এল- এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের ক্রিকেট তারকাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন যে নিশ্চয়ই ওপর মহলের চাপ থেকেই মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে বাংলাদেশের। ভারতের ক্রিকেট তারকাদের ওপর মহলের চাপের কথা বলার পর বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, তাহলে কি মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরেকটা পর্যায়ে প্রবেশ করল?

ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়নে একের পর এক আক্রমণের ঘটনার মধ্যে তারা প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে অপরাজনীতিতে মেতে উঠেছে। শেখ হাসিনার পতন নিয়ে গত দেড় বছরেও ভারত কেন ‘রিয়েলিটি’ মেনে নিতে পারছে না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। ভারত যে একের পর এক নৈরাজ্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে, তা দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের উন্নতির বিষয়টিকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিচ্ছে।

 

উপমহাদেশে ক্রিকেটে ‘দাদাগিরি’

বিখ্যাত ভারতীয় সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দী একসময় বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ ধর্ম’, যা ধর্ম ও জাতিবাদের বিভেদে এ অঞ্চলের মানুষকে একমাত্র একসূত্রে গাঁথতে পারে। কিন্তু বিরোধপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্রিকেটকে এখানে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যে কারণে পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠী যে মনোভাব প্রকাশ করে, মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও তেমনটি দেখা গেল।

প্রতিবেশী দেশগুলোর পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে যে ‘বিগ ব্রাদার সিনড্রোম’ বা ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তার পুনরাবৃত্তি ঘটল এই ঘটনায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখা এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ধারাবাহিক ঘটনাবলিতে বাংলাদেশে ভারতবিরোধিতা এখন তুঙ্গে। মোস্তাফিজ ইস্যু এই ভারতবিরোধিতার পালে আরও হাওয়া দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আইপিএল বিমুখ হবে বাংলাদেশি দর্শক
ভারতের বাইরে আইপিএলের অন্যতম বড় বাজার হলো বাংলাদেশ, যা ক্রিকেটপাগল দেশ হিসেবে পরিচিত। মুস্তাফিজসহ বাংলাদেশের বড় বড় তারকারা আইপিএলে খেলার কারণে এই ক্রিকেট লিগের প্রতি এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আলাদা মনোযোগ থাকে। রাজনৈতিক কারণে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণ কোনোভাবেই ভালোভাবে নেবে না এবং এটি ক্রিকেটপ্রেমীদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করবে। এর ফলে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি দর্শকেরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, যা আরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে আইপিএলের দরপতনের ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং এতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিটা আইপিএলেরই হয়েছে।

মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় ইতিমধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়ে ভারতের খেলতে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধের কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেট তারকারা ইতিমধ্যে আইপিএলে নিষিদ্ধ। যদি পাকিস্তানের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটকেও ভারত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রকাশের হাতিয়ার বানায়, তাহলে উপমহাদেশে ক্রিকেটকে ঘিরে ভারতের যে সফট পাওয়ার গড়ে উঠেছিল, সেটি বড় ধাক্কা খাবে।

 

কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বের ক্রিকেটাঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এমনকি ভারতেও এ নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যে হিন্দি সিনেমা ভারতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে সেই সিনেমার নায়ক শাহরুখ খান মুসলমান হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। বাংলাদেশও ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ প্রবাদের মতোই ভারতকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের ভেন্যুতে নিরাপত্তার শঙ্কায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মৃত্যুদ-ে দ-িত খুনি হাসিনাকে আশ্রয় দেয়া ভারত মুসলিম ক্রিকেটারদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশিদের ভারত গ্রহণ করছে না; বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে যেসব ভারতীয় বৈধ-অবৈধভাবে চাকরি করে বিপুল অর্থ নিয়ে যাচ্ছে তাদের শনাক্ত করে বের করে দেয়ার দাবি উঠেছে। তাদের বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের শুধু ভারত-বিরোধিতা নয়, হিন্দুত্ববাদী দেশটির বিরুদ্ধে মালদ্বীপের মতো ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশি ক্রিটেকার মোস্তাফিজুর রহমান মুসলমান হওয়ায় তাকে বাদ দেয়া হয়েছে স্বীকার করে ভারতের কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর বলেছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) নিন্দনীয়ভাবে মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি খেলোয়াড়টি যদি হিন্দু ধর্মাবলম্বী তথা লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে কী বাদ দেয়া হতো?’ ধর্মের কারণে মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া বিজেপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মদন লাল বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন খেলাধুলার ভেতরে এত রাজনীতি ঢুকে পড়ছে। ক্রিকেট কোন দিকে যাচ্ছে, খেলাধুলাই বা কোন পথে তা নিয়ে আমি সত্যিই চিন্তিত। বাংলাদেশের খেলোয়াড় নিয়ে যা ঘটছে, তা খুবই দুঃখজনক’।