খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা মুক্তি পাবেন না: নজরুল ইসলাম খান

33

নিউজ২১ডেস্কঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনও মুক্তি পাবেন না। বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার কারণে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বৃদ্ধি পায়। অবশেষে তাঁকে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো।

বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজার আগে লাখো মানুষের সামনে খালেদা জিয়ার জীবনের নানা ঘটনার কথা তুলে ধরেন নজরুল ইসলাম। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ বছরের বেশি সময় অন্ধকার কারাগারে আবদ্ধ থাকার সময় উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। সমগ্র দেশবাসী সাক্ষী- হেঁটে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু নির্জন কারাগার থেকে বের হন চরম অসুস্থতা নিয়ে। দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তীতে গৃহবন্দির চার বছর তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার কারণেই অসুস্থতা বৃদ্ধি পায়। অবশেষে তাঁকে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো। তাই এই মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনো মুক্তি পাবেন না।

খালেদা জিয়া সম্পর্কে নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং দেশের স্বার্থে অননমনীয়তার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে ব্যক্তি শত্রু হিসেবে গণ্য করে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এমনকি তথাকথিত এক-এগারো সরকারের সময় দেশনেত্রীকে কারারুদ্ধ করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কেবল প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য দেশনেত্রীকে তাঁর শহীদ স্বামীর স্মৃতিবিজরিত বাড়ি থেকে উৎখাত করে। মিথ্যা অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। তবুও আধিপত্যবাদী অপরাজনীতির সঙ্গে তিনি আপস করেননি। আপস করেননি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা ভোটাধিকারের প্রশ্নে। ফলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাসিস্ট শাসনবিরোধী লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজ দেশনেত্রী সব অভিযোগ থেকে মুক্ত। লক্ষ কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জানাজায় আমাদের সামনে আছেন। অন্যদিকে যারা জেলে পাঠিয়েছে, যারা তাঁকে গৃহহীন করেছে, তারা রান্না করা খাবার খেতে পারেনি, পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। মাথার ওপর ঝুলছে মৃত্যু পরোয়ানা। এরশাদকে ভোগ করতে হয়েছে দীর্ঘ কারাবাস, এক-এগারো সরকারের প্রধান ব্যক্তিরাও দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।

জানাজার আগে নজরুল ইসলাম খানের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, খালেদা জিয়া খুব পরিপাটি থাকতে পছন্দ করতেন। ফুলের প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ অনুরাগ। এ কারণে তাঁর বিভিন্ন সমাবেশ থাকতো সুশোভিত।

 

নজরুল ইসলাম খান এতো এতো সুমধুর কন্ঠস্বরের অধিকারী নেতা কিংবা স্মার্ট নেতা থাকা সত্বেও কোটি কোটি মানুষের সামনে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করার জন্য নজরুল ইসলাম খানের মতো বয়োঃবৃদ্ধ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছে জিয়া পরিবার।
সেই সুযোগ পেয়ে নজরুল ইসলাম খান ঐ বেগম খালেদা জিয়ার কফিনকে সামনে রেখে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিজে কেঁদেছেন এবং পুরো বাংলাদেশের মানুষকে কাঁদিয়েছেন।
এমপি-মন্ত্রী না হয়েও, কোনো পারিবারিক লিগ্যাসি ছাড়াও যে দেশের শীর্ষ ১০ জন রাজনীতিবিদের মধ্যে একজন হওয়া যায় তার অন্যতম উদাহরণ এ-ই নজরুল ইসলাম খান।
এমপি মন্ত্রী হতে না পারলেও গত ৫০ বছরে যতগুলো স্বৈরশাসনে কবলিত হয়েছে বাংলাদেশ, সব স্বৈরশাসনেই একাধিকবার জেল রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন আবার কখনো কখনো রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার হয়েছেন; শেষ জুলাই আন্দোলনেও আটক হয়েছেন, রিমান্ডে গেছেন।
জিয়া পরিবারের এতো কাছাকাছি থাকা সত্বেও নজরুল ইসলাম খান কখনো কমিটি বাণিজ্য কিংবা নমিনেশন বাণিজ্য করেছে, এমন দাবি তার কোনো শত্রুও তুলতে পারবে না।
আসন্ন ত্রেয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ইং পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, বিএনপি নীতিনির্ধারণী সম্মানিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। কিন্তু দলে কোনো কোরামবাজি করেন নাই এবং তার নিজ জেলার রাজনীতিতেও কোনোদিন হস্তক্ষেপ করেন নাই।
দেশের প্রয়োজনে ১৯৭১ সালের মতো কখনো অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন আবার কখনো কলম হাত তুলে নিয়েছেন কিন্তু কখনো স্বার্থের জন্য রাজনীতিকে ব্যবহার করেন নাই নজরুল ইসলাম খান।
দেশের তরে জীবনের সর্বোচ্চ সময়টুকু বিলিয়ে দিলেন তারপরও এতোকিছুর বিনিময়ে এদেশ থেকে কিছু না নেওয়া বাংলাদেশে সম্ভবত একমাত্র রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান যদি কখনো মারা যায়, তার নামের আগে ব্যবহার হবে না ততবারের এমপি এতোবারের মন্ত্রী নজরুল ইসলাম খান মারা গেছে; সেদিনও খুব সাদামাটাভাবে বলা হবে, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান মারা গেছে।
সময়ের প্রয়োজনে হয়তো বাংলাদেশের মানুষ নজরুল ইসলাম খানকে ভুলে যাবে কিন্তু বিএনপির সকল নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করবো এ-ই মানুষটাকে কখনো ভুলে যাইয়েন না; আপনারা ছাড়া এ-ই মানুষটাকে মনে রাখার মতো কেউ নাই, একেবারে কেউই না।