ঢাকা আজ অন্য রকম। চেনা শহর, চেনা রাস্তা—তবু সবকিছু যেন অচেনা। কোলাহলমুখর রাজধানী আজ ভারী নীরবতায় আচ্ছন্ন। বাতাসে ভাসছে এক ধরনের শূন্যতা, মানুষের চোখেমুখে গভীর বিষণ্ণতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান পুরো দেশ। অথচ দেখালো জাতি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জানাজা বেগম খালেদা জিয়ার।

নিউজ ডেস্কঃ বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ানে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার প্রথম দিনেই তার স্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে রাজধানীর সর্বত্র। সকাল থেকেই অনেক দোকানপাট বন্ধ, রাস্তায় যানবাহনের চলাচল সীমিত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা দেশ ও মুসলিম বিশ্বে বৃহত্তম। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং গোটা মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের এই বৃহৎ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন লাখ লাখ মানুষ। কোনো মুসলিম নারীর এটিই সর্ববৃহৎ জানাজা।
আজ বিকাল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামের জন্য তিনি আপোসহীন দেশনেত্রী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের জন্য গণতন্ত্রের মাতা ও জাতীয় নেত্রী হিসেবে জনগনের ভালবাসায় তিনি সম্মানিত হন।

মা, মাটি ও মানুষের রাজনীতিতে যিনি ছিলেন অনড় ও আপসহীন, সেই খালেদা জিয়া আর নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য উত্থান-পতন, সংঘাত আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই নারী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনিবার্য অধ্যায়। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছায়নি, বরং পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্বের এক দৃঢ় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রীর বিদায় নয়, একটি সময়েরও অবসান ঘটেছে—এমনটাই মনে করছেন অনেক মানুষ।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও লাখ লাখ নেতা-কর্মী জানাজায় অংশ নেন।
এ ছাড়া বিদেশি কূটনৈতিকরা এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব।
এর আগে, শুধু মানিক মিয়া এভিনিউয়েই নয়, আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মানুষ অবস্থান নেয় জানাজায় অংশ নিতে। সেখানে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইতিহাসে কোনো মুসলিম নারীর সর্ববৃহৎ জানাজা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বড় জানাজা।
জানাজার পর, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ।
লাল সবুজের পতাকায় মোড়ানো লাশ বহনকারী গাড়িটি বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার পর সেখানে প্রবেশ করে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকাকালীন তিনি যে সব বক্তব্য দিয়েছেন, সে সব বক্তব্য জানাজাস্থলে প্রচার করা হচ্ছে।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ১১টার পর পরই প্রবেশ করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ি।
এর আগে এদিন সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহবাহী গাড়িটি তারেক রহমানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কফিনের পাশে বসে কোরআন তিলাওয়াত করেন তাঁর বড় ছেলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে যে সংগ্রাম করেছেন, আর তাঁর শেষ বিদায়ে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিততে ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমুদ্র তাকে কৃতজ্ঞ চিত্তে শ্রদ্ধা জানালো।
জানাজায় অংশ নেয়া আলমগীর, আদিব ও সুলাইমানসহ আরও অনেকে বাসসকে বলেন, দেশের ইতিহাসে এটিই কোন জানাজায় বৃহত্তম উপস্থিতি। এটি শুধুই জনসমুদ্র নয়, মহা জনসমুদ্র।
তারা আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা কতটা জনপ্রিয় ও ভালবাসার হলে এরূপ হতে পারে, বেগম খালেদা জিয়া সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন।
তারা বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই ও অবদান ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন।
এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশান থেকে জানাজার উদ্দেশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাঁর মরদেহ বহনকারী জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িটি সংসদ ভবন এলাকা নেওয়া হয়।
আজ বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িবহর তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে বের হয়। পৌনে ১১টার পর গাড়িবহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। গাড়িবহরে লাল-সবুজ রঙের একটি বাসও রয়েছে।
তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান ও ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা জানাজাস্থলে উপস্থিত হন।
দেশে এমন জানাজা আগে দেখেনি কেউ

এই জানাজায় জনসমুদ্র শব্দটিও যেন বিশালতার কাছে হার মেনেছে। কেননা যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই কেবল চোখে পড়েছে মানুষের মাথা। শোনা গেছে লাখো কণ্ঠের কান্নাজড়িত দোয়া।
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ছাপিয়ে জনস্রোত আছড়ে পড়েছে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের এই ঢল প্রমাণ করল, রাজনীতির ‘আপসহীন নেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরে স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন, ‘দেশে এমন জানাজা এর আগে আর দেখেনি কেউ।’

আজ বাংলাদেশ কাঁদছে। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ নীরবে। এই শোকের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মূল্যায়ন, নানা প্রশ্ন। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে একটি সত্য স্পষ্ট—খালেদা জিয়া ছিলেন এমন এক রাজনৈতিক চরিত্র, যাকে উপেক্ষা করার সুযোগ ইতিহাসও পাবে না।
এক জীবনের অবসান মানেই সব শেষ নয়। স্মৃতিতে, আলোচনায়—খালেদা জিয়া থাকবেন বহুদিন। আর আজ, এই দিনে—ঢাকা নীরব। বাংলাদেশ
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার স্বজনরাও এই গাড়িবহরে ছিলেন।
আজ সকাল সোয়া ৯টার পর শেষবারের মতো বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় নেওয়া হয়।
পরে গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে খালেদা জিয়ার স্বজন ও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।
সেখানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বুধবার বাদ জোহর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হচ্ছে।
জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় নেতা—কর্মীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
শেষবারের মতো খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখার আশায় তারা গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে রাজধানীতে আসেন।
বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার পর সংসদ ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় জাতীয় পতাকায় মোড়া লাশবাহী গাড়িতে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশেষ একটি বাহনে করে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়।
সমাধির কাছাকাছি নেওয়ার পর খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে যান সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।
দাফনের প্রক্রিয়া চলার সময় তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোটভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তাঁর বড় মেয়ে জাহিয়া রহমান, ছোট মেয়ে জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপির নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দাঁড়িয়ে শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণী, তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক মহাসমুদ্রে রূপ নেয়।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানান ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ ছাড়া পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারও তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল।
এ ছাড়া পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশি অতিথিরা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
জানাজায় অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ গ্রহণ করেন। দেশি-বিদেশি রাজনীতিক, কূটনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও লাখ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
এছাড়াও বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন। বিদেশি কূটনৈতিকরাও এতে অংশ নেন।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে শুধু মানিক মিয়া এভিনিউ নয়, আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষ অবস্থান নেয়। তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তাঁর জীবন ও কর্ম সবার উদ্দেশে তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এছাড়াও পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজ পড়ান। দুপুর ৩ টায় জানাজা শুরু হলেও ভোর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অগণিত মানুষ প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে রাজধানী জুড়ে জনস্রোত তৈরি করে।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আজ কৃতজ্ঞ জাতি তার শেষ বিদায়বেলায় সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, আজকের এই মহাসমুদ্র তারই প্রমাণ।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ও সেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
গতকাল ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার।
এ ছাড়া বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আপোষহীন দেশনেত্রী ও জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোকে স্তব্ধ পুরো বাংলাদেশ।



