দায়িত্বের রাজনীতি ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারঃ সাবেরা শারমিন হক

208

ঢাকাঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি দায়িত্বশীল রাজনীতির এক বিরল উদাহরণ। ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং দায়বদ্ধতার রাজনীতি ছিল তাঁর পথচলার মূল দর্শন।

আজ তাঁর জীবনাবসান আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক গভীর আক্ষেপ—যদি সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত হতো, তবে হয়তো তিনি আরও কিছুদিন দেশের মানুষের পাশে থাকতে পারতেন।

স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে তাঁর আগমন ছিল অনিচ্ছাকৃত হলেও সময়ের প্রয়োজনে অনিবার্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব, ১৯৯১ সালে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ক্ষমতা হারানোর পর তাঁকে যেভাবে রাজনৈতিক মামলা, দমন-পীড়ন ও কারাবরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা বঞ্চনার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

তিনি দেশ ছেড়ে যাননি, জনগণকে পরিত্যাগ করেননি। এই দেশের মাটিতেই জন্ম, এখানেই তাঁর শেষ ঠিকানা।

ভদ্রতা, শালীনতা ও সংযম—এই তিনটি গুণই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে একজন দায়িত্ববান নেত্রী হিসেবে, যিনি ক্ষমতার চেয়েও নৈতিকতাকে বড় করে দেখেছিলেন।

সৃষ্টিকর্তা তাঁকে বেহেশত নসিব করুন।