বাংলাদেশে কি হাযদারাবাদের ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়িত করার চেষ্টা চলছে ঃ আরিফুল হক

51
বিশেষ প্রতিবেদনঃ নব্বই দশকের শেষের দিকে একটা বই লিখেছিলাম , বইটির নাম ছিল ‘হায়দারাবাদ ট্রাজেডী ও আজকের বাংলাদেশ’। সেখানে আশংকা প্রকাশ করেছিলাম, বাংলাদেশের পরিনতিও কি হায়দারাবাদের পথ ধরে এগোবে ! বইটি প্রকাশ করেছিল , বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ । বইটা এখন আর বাজারে নেই ,প্রিন্ট ও পাওয়া যায়না । হয়ত দরকার নেই , কারন ‘হায়দারাবাদ’ নামটাই আজ পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত ,করে ফেলা হয়েছে ,তখন বইটার আর প্রয়োজন কি !
হায়দারাবাদ বিলু্প্ত হয়েছে তবে আমার আশংকার ইতিহাস বিলুপ্ত হয়নি । শিঘ্রই হায়দারাবাদের ইতিহাস হয়ত বাংলাদেশ হয়ে ফিরে আসতে যাচ্ছে । তাই হায়দারাবাদের ইতিহাস প্রত্যেকটি বাংলাদেশীর জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ।কারন হায়দারাবাদের করুন ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষকে অনেককিছু বলতে চায় , জানাতে চায়, সতর্ক করতে চায় !
কি ছিল হায়দারাবাদ ।
পৃথিবীর বিস্ময়,জ্যোতির পাহাড় , ‘কোহিনুর’ হীরার জন্মদাত্রী,হীরক-আকর সমৃদ্ধ গোলকুন্ডার কন্যা হায়দারাবাদ । গোদাবরী, কৃষ্ণা,তুঙ্গভদ্রা,পূর্ণা, ভীমা, পেনগঙ্গা,ওয়ার্ধা, মুসী, প্রানহিটা নদী বিধৌত সুজলা সুফলা দেশ হায়দারাবাদ ।
ইতিহাস খ্যাত অজন্তা -ইলোরা গুহা । আওরঙ্গাবাদ, ওসমানাবাদ শহর । গোলকুণ্ডা , গুলবার্গ , ওয়ারাংগাল, রাইচুর, পারেন্দা , নলদূর্গ প্রভৃতি ঐতিহাসিক দূর্গের ঐতিহ্যমণ্ডিত হায়দারাবাদ । হীরক, স্বর্ণ ,লৌহ, কয়লা , অভ্র প্রভৃতি মূল্যবান আকরিক সম্পদে সমৃদ্ধ হায়দারাবাদ। মক্কা মসজিদ , চার-মিনার সৌধ মসজিদ সহ পাঁচশ বছরের মুসলিম শাসনের আভিজাত্য সম্বলিত হায়দারাবাদ ,আজ নিঝুম গোরস্থানে নিভে যাওয়া এক প্রদীপের মত , নাম নিশানাহীন , ভারতশাষিত তেলেঙ্গানা অঙ্গ-রাজ্য মাত্র !
বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় বড় (৮২,৬৯৬ বর্গ মাইল) বিস্তৃত দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে সুবিশাল রাজ্য ছিল হায়দারাবাদ । ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনেও একধরণের স্বাধীন রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হত । হায়দারাবাদের নির্বাচিত গনতান্ত্রিক সরকার ছিল ।নিজস্ব মুদ্রা ছিল, সেনাবাহিনী ছিল আইন আদালত ছিল , বিচার ব্যবস্থা ছিল,হাইকোর্ট ছিল , শুল্ক বিভাগ ছিল। নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, ভাষা ছিল। নিজস্ব স্বাধীন পতাকা ছিল, জাতীয় সঙ্গীত ছিল , দেশে দেশে নিজস্ব রাষ্ট্রদূত ছিল, এমনকি জাতিসংঘে নিজস্ব প্রতিনিধি ও ছিল । অর্থাৎ একটা স্বাধীন দেশের যা যা পদমর্য্যাদা থাকে, সবই হায়দারাবাদের ছিল । তাছাড়াও ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অফ ইণ্ডিয়া এ্যাক্টে হায়দারাবাদকে স্বাধীন মর্য্যাদা দান করে বলা হয়েছিল , দেশীয় রাজ্যগুলির পদমর্য্যাদা এবং স্বাভাবিক কার্যাবলি, স্বাধীন ভারতের কাছে রাজ্যগুলির অনুমতি ব্যতিরেকে হস্ত্যান্তর করা যাবেনা । তারপরও নাজীহিন্দুত্ববাদী ভারত, আন্তর্জাতিক সকল আইন-কানুন নর্ম উপেক্ষা করে, হায়দারাবাদে সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে দেশটি দখল করে নেয় ।
ভারত কি ভাবে হায়দারাবাদ দখল করলো !
নাজী হিন্দুত্ববাদী ভারতের আশপাশের রাজ্যগুলি দখল করার ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে তারা কিছু এজেন্টের মাধ্যমে প্রথমে দেশের অভ্যন্তরে বিরোধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ।তারপর সেই সুযোগে দূর্বল দেশটির উপর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশটি দখল করে নেয় । ৪৭সালের পার্টিশনের সময় যেমনটা আমরা দেখেছি, ত্রিবাঙ্কুরে , যোধপুরে, ভূপালে , জুনাগড়ে এবং হায়দারাবাদে ।পরে সিকিমে । ফিরে আসি হায়দারাবাদের কথায় ।
মুসলিম শাসিত হায়দারাবাদের জন্মলগ্ন থেকে দেশটির জনগন কোনদিন সাম্প্রদায়িকতা কাকে বলে জানতোনা । সেই হায়দারাবাদে হিন্দু মহাসভা , আর্য্য সমাজ প্রভৃতির শাখা সৃষ্টি করে ভারত সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করলো।
বংশ পরম্পরায় প্রচলিত জাতীয় সংগীতের বিরূদ্ধে, গান্ধীজীর নির্দেশে, তার শিষ্য রামানন্দ তীর্থ, নরসীমা রাও(ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী) , ওয়াই বি চ্যবন প্রমূখ, ‘বন্দেমাতরম’ কে জাতীয় সঙ্গীত করার আন্দোলন শুরু করে দিল ।
মোগল আমল থেকে প্রচলিত হায়দারাবাদের নিজস্ব জাতীয় ভাষা,উর্দূভাষার পরিবর্তে হিন্দুস্থানী ভাষা প্রচলন করার দাবীতে ভাষাআন্দোলন শুরু করা হল।
ষ্টেট কংগ্রস প্রেসিডেন্ট রামানন্দ তীর্থর মাধ্যমে বর্ডার এলাকা গুলোতে অস্ত্রধারি ক্যাডারদের জড় করে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে , হায়দারাবাদের সীমান্ত অঞ্চলকে ফ্রীজোন ঘোষনা করলো ।
তারপর, শ্রেনী সংগ্রামী নামধারী কমিউনিষ্টদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তেলেঙ্গানা বিদ্রোহ সৃষ্টি করে হায়দারাবাদ দখলের প্রস্তুতিমূলক ড্রেস রিহার্স্যাল শেষ করলো ! এবার দেশটি দখলের ফ্যাইন্যাল মঞ্চায়নের পালা ।
প্রথম ভাগে ,বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিবীদ ও বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে হায়দারাবাদ কে ভিতর থেকে অস্থিতিশীল এবং জনগনকে বিভক্ত ও দূর্বল করে ফেলা হল , যাতে করে সেনাবাহিনীর সামান্য আঘাতেই হায়দারাবাদের পতন ঘটে ।
আগ্রাসী ভারতের হায়দারাবাদ দখলের নক্সা বা ব্লু-প্রিন্ট পর্য্যালোচনা করলে, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনীতির বেশ কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাবে ।
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট স্বাধীন পাকিস্তানের ঘোষনা দেয়া হল । এবং ঐদিনে হায়দারাবাদও স্বাধীনতা ঘোষনা করলো । বর্ণবাদী হিন্দু নেতারা হায়দারাবাদের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারলনা ! জওহরলাল নেহেরু হুঙ্কার দিয়ে বললেন ‘ যদি এবং যখন প্রয়োজন মনে করবো , হায়দারাবাদের বিরূদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করা হবে । নেহেরুর এই দাম্ভিক উক্তি সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে ১৯৪৮ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন বৃিটিশ বিরোধীদলীয় নেতা উইনস্টন চার্চিল কমন্স সভায় বলেছিলেন, “Nehru’s threat to the language , which Hitler might have used the devouring of Austria”( B K Bawa.The last Nizam)
দেশের ভিতরে নানান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পর ভারত ফাইনালি হায়দারাবাদ দখলের পরিকল্পনা করলো । লেঃ জেঃ ই এম গোর্দাদ , জিএসও সাউর্দান কমাণ্ড-এর উপর আক্রমনের প্ল্যান তৈরির ভার দেয়া হল । তাকে দেয়া হল —
১) একটি আর্মার্ড বিগ্রেড । ২) ১৭ ডোগরা রেজিমেন্টের থার্ড ক্যাভালরি ও নবম ব্যাটালিয়ন ।৩) নবম- ইনফেন্ট্রি ব্যটালিয়ন সহ আরও ৩ টি ইনফ্রেন্ট্রি ব্যটালিয়ন ।৪) ৪টি অতিরিক্ত ইনফ্রেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন।
৫) ৩রেজিমেন্ট ফিল্ড আর্টিলারি ও একটি এ্যান্টি ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট । ৬) ১৮ ক্যাভালরি সার্ভিস মেইনটেইনেন্স ট্রুপস। ৭) বিপুল সংখ্যক ফোরম্যান ও ষ্টুয়ার্ট ট্যাংক ।
৮) রয়্যাল ইন্ডিয়ান বিমান বাহিনী !
অপর পক্ষে হায়দাবাদের ছিল — মাত্র, ১) ১২ হাজার সেনা ২) ৮ টি ২৫ পাউন্ডের কামান। ৩) ৩ রেজিমেন্ট সেনা যানবাহন ।৪) ১০ হাজার পুলিশ ও কাস্টম বাহিনী, ও কিছু জানবাজ বেসরকারি রেজাকার বাহিনী ।
১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রানপ্রিয় নেতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ইন্তেকাল করলেন, সমস্ত মুসলমান জাতি তখন শোকে মূহ্যমান , ঠিক সেই সময়টিকে হায়দারাবাদ আক্রমনের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিলেন ভারতীয় খলনায়করা ।
১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয়বাহিনী , মেঃ জেঃ জে এন চৌধুরির নেতৃত্বে হায়দারাবাদ অভিমুখে ত্রিমূখী অভিযান শুরু করলো ।‌অভিযানের নাম দেয়া হল ‘অপারেশন পোলো’।১৯৪৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫ দিনের যুদ্ধে, হায়দারাবাদ বাহিনীর সেনাপতি মেজর জেনারেল আল ইদরুস বেইমানীকরে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে ।এভাবেই চিরতরে নিভে যায় স্বাধীন হায়দারাবাদের স্বাধীনতার প্রদীপ ! আজ হায়দারাবাদ নামটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে হিন্দুত্ববাদীরা নাম দিয়েছ তেলেঙ্গানা । শকুনের দল স্বাধীন দেশটিকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে, অন্ধ্রপ্রদেশ , মহারাষ্ট্র , কর্ণাটক , তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যের মধ্যে বিলিবন্টন করে দিয়েছে ।হায়দারাবাদের নামনিশানা পর্যন্ত পৃথিবীর মানচিত্রে আর অবশিষ্ট নেই !
ভারতীয় সাংবাদিক ভি টি রাজশেখর এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘ মুসলমানদের বড় অক্ষমতা তারা নাজীহিন্দুদের মনের কথা বুঝতে সক্ষম হয়নি’। কথাটির সত্যতা বাংলাদেশের মুসলমানরা আজ হাড়েহাড়ে উপলব্ধি করতে পারছে ! প্রানের কানুকে ভালবেসে আজ তারা গভীর খাদের শেষ কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে । সামান্য আঘাতেই হায়দারাবাদের মত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে !
ভারত কোনদিনই বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র ছিলনা । তার বহু প্রমান দেয়া যায় । স্থানাভাবে তা দেয়া সম্ভব নয় ।স্মৃতি তাজা করার জন্য মাত্র দু একটা তুলে ধরতে চাই। ১৯৪৭ থকে ৫০ সাল পর্য্যন্ত জওহরলাল নেহেরু ৩বার পুলিশ এ্যাকশন করে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান (আজকের বাংলাদেশ) দখল করার পরিকল্পনা করে । এ তথ্য ফাঁস করেছেন মিঃ নিরোদ সি চৌধুরী তাঁর এক প্রবন্ধে।
জয়প্রকাশ নারায়ন সৈন্য ঢুকিয়ে পূর্ব পাকিস্তান গ্রাস করার পরামর্শ দিয়েছিলেন । শুধু কি নেহেরু- জয়প্রকাশ ! প্যাটেল বলেছিলেন ‘পূর্ববাংলাকে ৬মাসের মধ্যেই আমাদের পা’য়ে এসে পড়তে হবে ‘ । ‘৪৭ থেকে বর্তমান মোদির জমানা প্রর্যন্ত ভারত প্রতিটি পদক্ষেপে নিজেকে পররাজ্য লোভী , চরম হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক দেশ বলে প্রমান রেখেছে ! তারপরও ৯০%মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের নাকি তার ‘নাড়ীর বন্ধু ‘ ভারত !
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ ভারতকে যা দিয়েছি সারা জীবন মনে রাখবে “। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর মত’!
স্ত্রীর সম্পত্তিতে তো স্বামীর অধিকার থাকা বাঞ্ছনীয় । সেজন্যই আজ বাংলাদেশের সবকটা নদী ভারতের অধিকারে ! বাংলাদেশের রাস্তাগুলোতে চলছে ভারতীয় ট্রাক বহর ! রেলপথ ভারতের জন্য উন্মুক্ত ! সমুদ্রবন্দরে ভারতের অবাধ অধিকার প্রতিষ্ঠিত ! বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল ভারতের নজরদারীতে । বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান থেকে মন্ত্রনালয়ের সচিব বেশিরভাগ পদ ভারতীয় র’অপারেটরে পূর্ণ! পুলিশ প্রশাসনে গ্রাম পর্য্যায় পর্যন্ত ভারতীয় ক্যাডারদের দৌরাত্ম ।তাদের অস্ত্র মুসলমানদের ক্রশফায়ারে হত্যা করার জন্য উন্মুক্ত ।
দেশের মুসলমান যুবকরা বেকার , অথচ লক্ষ লক্ষ ভারতীয়রা এদেশে চাকরীকরে, ব্যবসা করে ভারতে টাকা পাচার করছে । ভারত এখন বাংলাদেশ থেকে সর্বাধিক রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশ।
দেশের প্রায় সবকটা সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন ভারতের নিয়ন্ত্রনে ।
দেশের ভিতরে ‘ইসকন’ , ‘হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য ‘ইত্যাদি নামের বেশ কিছু সংগঠন এবং এনজিও মুসলমানদের বাড়ীঘর দখল, অত্যাচার , হত্যা প্রভৃতির মাধ্যমে সংখ্যাগুরু মুসলমানদের ভিতর ত্রাস সঞ্চার করে রেখেছে। এসবই নিত্যদিনের খবর । তারপরও বংলাদেশ নাকি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র !
বিজেপির গুরু ভিডি সাভারকর ১৯২৩ সালে হিন্দুর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছিলেন, “হিন্দু এমন এক মানুষ যিনি সিন্ধু থেকে সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ভারতবর্ষকে নিজের পিতৃভূমি , পূণ্যভূমি এবং তার ধর্মের জন্মস্থান বলে মনে করে “। ভারত তোষনকারী আওয়ামীলীগ নেতানেত্রীরা, ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য যতই ভারতের গুনগান করুক ,ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র বলে যতই প্রচার করুক না কেন, ভারত বন্ধুত্বের একটা নজীরও স্থাপন করতে পারেনি । যারা ‘৭১সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপমা টেনে জনগনের মগজ ধোলাই করতে চান , তাদের জানিয়ে দিন ভারত আমাদের স্বাধীনতার জন্য সেনা অভিযান করেনি , তাদের উদ্দেশ্য ছিল , পাকিস্তান ভেঙ্গে দূর্বল করে ফেলা, এবং বাংলাদেশ নামক পূর্ববাংলাকে ১৯৪৭ এর আগের হিন্টারল্যাণ্ড বা ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা , যা আজকের বাস্তবতা।
(এখন ইন্দিরা গান্ধীর নাতনী প্রিয়াংকা গান্ধী ও ভারতীয় পার্লামেন্টে এইকথা স্বীকার করছে )
১৭কোটি মুসলমানের দেশটাকে ভারত জল,স্থল আকাশ সমুদ্র চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে ।আজ প্রয়োজন নবজাগরণের , সৎ বন্ধু অন্বেষণের, এবং প্রয়োজন আত্মবাদে বলীয়ান হয়ে ওঠার । বাংলাদেশের শোষিত মানুষকে আহ্বান জানাই ! বিলীন হয়ে যাওয়ার আগে আত্মবলে বলীয়ান হয়ে একবার জেগে উঠুন! আমাদের প্রিয় রাসূল(সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন “ ক্ষমতা মদমত্ত জালেমের জুলুমবাজির প্রতিবাদে সত্য কথা বলা, ও সত্য মতের প্রচারই সর্বোৎকৃষ্ট জেহাদ “। আসুন আমরা সকলে একহয়ে সেই জেহাদে প্রবৃত্ত হই ।প্রিয় দেশটাকে ভারতীয় ইসরাইলের কবল মুক্ত করি ।