বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তক নেতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আজ

190

সাবেরা শারমিন হকঃ তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থানের পর তাঁর দেশে ফেরা দলীয় রাজনীতি, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করছেন সমর্থকরা। বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়; বরং এটি তাঁর অনুসারীদের কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিসর বিস্তৃত করা এবং সংগঠনকে আরও সুসংহত করার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর ভূমিকা কী হবে এবং তিনি কীভাবে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবেন—সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তারেক রহমানকে যে সময় ও যে প্রেক্ষাপটে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বিতর্কিত অধ্যায়। ২০০৭–২০০৮ সালের জরুরি অবস্থার সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।

২০০৮ সালের শেষ দিকে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শারীরিক অসুস্থতা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। তাঁর পরিবারের ভাষ্যমতে, এটি ছিল সাময়িক চিকিৎসাজনিত সফর। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যেগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত ও মিথ্যা মামলা। এর ফলে তিনি কার্যত দেশে ফিরতে অক্ষম হয়ে পড়েন।

পরিবার ও দলের বিরুদ্ধে চাপ তারেক রহমানের পাশাপাশি তাঁর পরিবার এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি ও রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করা, দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর জেল-জুলুম ও গুম-খুনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা

, পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪—এ তারেক রহমানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। কখনো মামলার কারণে, কখনো আইনি জটিলতা, আবার কখনো রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে তাঁর দেশে ফেরা ও সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা হয়। এটি ছিল পরিকল্পিতভাবে নেতৃত্বশূন্য করার কৌশল।

দেশে ফিরতে না পারলেও তারেক রহমান প্রবাস থেকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করে আসছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এটি প্রমাণ করে যে তাঁকে দেশ থেকে দূরে রাখলেও রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা যায়নি।

বিএনপি ও তারেক রহমানের সমর্থকদের দৃষ্টিতে, তাঁর দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া কোনো স্বেচ্ছা সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং রাজনৈতিক নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা ও বিরোধী কণ্ঠ দমনের ফল। দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরতে না পারা, নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া এবং পরিবারের ওপর চাপ—সব মিলিয়ে বিষয়টি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রশ্নে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।সুস্বাগতম তারেক রহমান।

আপনার নেতৃত্ব বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতীক। আজ যখন গণতন্ত্র সংকুচিত, তখন আপনার উপস্থিতি নতুন করে সাহস ও দিকনির্দেশনা দেয়। জনগণই ক্ষমতার উৎস—এই নীতিতেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষায় জিয়াউর রহমানের প্রাসঙ্গিকতা এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এক নাম।

তিনি বিশ্বাস করতেন—গণতন্ত্র মানে কেবল নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র মানে মতের বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ। একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণকে ক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কোনো বিভাজনের দর্শন নয়; বরং এটি ঐক্যের দর্শন। ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের কথা তিনি বলেছিলেন। এই দর্শনই বাংলাদেশকে একটি বহুমাত্রিক, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে।

এই আদর্শ ও পথচলার ধারাবাহিকতায় তাঁর সহধর্মিণী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কারাবরণ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন।
ঠিক সেই পিতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং মাতা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের পথ ধরেই তাঁদের সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান একই আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর রাজনীতির মূল দর্শনও স্পষ্ট— জনগণই ক্ষমতার উৎস, আর জনগণের ভোটাধিকারই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং রাজনৈতিক নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা ও বিরোধী নেতৃত্বকে দমন করার কৌশলের ফল। তবুও তিনি দেশ ও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। বরং প্রবাস থেকেই বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক ভূমিকা রেখে গেছেন।

আজ যখন দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত এবং বিরোধী রাজনীতির পরিসর সীমিত—তখন তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার ফিরে আসা নয়; এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি প্রতীকী ও বাস্তব বার্তা।

তিনি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী থেকে একই পথে—বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জনগণের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।