গাজীপুর-২ আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে ব্যতিক্রমী সংবাদ সম্মেলন

139

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গাজীপুর-২ আসনে বিএনপিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, বিএনপির মনোনয়ন প্রশ্নে এক মঞ্চে ৬ প্রার্থী। তারা গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে এম মনজুরুল করিম রনির নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি।



গাজীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে আজ সোমবার, ১৫ ই ডিসেম্বর, এক ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবর্তিত নির্বাচনী বাস্তবতা, ভোটার মানচিত্র ও সাংগঠনিক ভারসাম্যের প্রশ্ন সামনে রেখে এক মঞ্চে একত্র হন ছয়জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী যা গাজীপুরের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, বর্তমান ভৌগোলিক পুনর্বিন্যাস ও ভোটার বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হলে দলীয় বিজয় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—গাজীপুর-২ আসনের প্রতিটি থানা, প্রতিটি ওয়ার্ড ও প্রতিটি ভোটারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

May be an image of ‎one or more people, temple and ‎text that says "‎ن খালেদা জিয়া'র দীরঁখায়ু কামনায় সবাসীর সম্মলিত‎"‎‎



বক্তারা বলেন, গাজীপুর-২ এখন আর শুধু একটি সংসদীয় আসন নয়—এটি বিএনপির সাংগঠনিক দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিজয়ের সক্ষমতার এক কঠিন পরীক্ষা। সঠিক সিদ্ধান্তই পারে এই আসনকে নিশ্চিত বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে, আর ভুল সিদ্ধান্ত ডেকে আনতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি।

এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—গাজীপুর-২ নিয়ে দলের ভেতরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, এবং এই সমীকরণ উপেক্ষা করার সুযোগ আর নেই।

 

 

গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বদলের দাবি

 

লিখিত বক্তব্যে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, “আমাদের এ বক্তব্য কোনো ব্যক্তি, সহযোদ্ধা বা কোনো মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়। এটি গাজীপুরবাসীর ভোটাধিকার, দলীয় ন্যায়বিচার এবং বিএনপির নির্বাচনি সক্ষমতা ও বিজয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত করার লক্ষে একটি যুক্তিসংগত ও সময়োপযোগী দাবি।”

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে গাজীপুর-৬ আসন বিলুপ্তির কারণে সামগ্রিকভাবে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তা নাহলে এ আসনে বিএনপির ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে।

আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নবগঠিত গাজীপুর-৬ আসন বাতিল হয়ে পূর্বাবস্থায় গাজীপুর-২ আসনে ফিরে এসেছে। এর ফলে গাজীপুর-২ আসনের রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও নির্বাচনি বাস্তবতা মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমান কাঠামোয় গাজীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় আট লাখ; যা এটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ, জটিল ও চ্যালেঞ্জিং সংসদীয় আসনে পরিণত করেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন বলেন, গাজীপুর-২ আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বাস্তবতায়। সেই সময় গাজীপুর-৬ আসন বহাল ছিল; টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল ছিল আলাদা সংসদীয় আসনের আওতায়; ভোটার চাপ ও ভৌগোলিক ভারসাম্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন সেই বাস্তবতা আর নেই।

অথচ বর্তমান পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনে মনোনীত প্রার্থীর বাড়ি কাউলতিয়া এলাকায়; যা নির্বাচনি এলাকার সর্বউত্তরে অবস্থিত; যেখানে ভোটার সংখ্যা মাত্র ৭৩ হাজার ৭৩৮ জন বলে জানান তিনি।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছি না। তিনি রাজনীতিতে নবাগত, এটিও আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে ভোটার বাস্তবতা, ভৌগোলিক ভারসাম্য এবং নির্বাচনি কার্যকারিতা নিয়ে।”

ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে গাজীপুর-২ আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হলে তা রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং সাংগঠনিকভাবে দুর্বল সিদ্ধান্তে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হাসান উদ্দিন।

তিনি বলেন, “ব্যক্তি-বিরোধিতা নয়, এটি দলীয় স্বার্থের প্রশ্ন। আমরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যে বিশ্বাসী।

“বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি, পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান ভোটার ও ভৌগোলিক বাস্তবতা পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করা হোক। টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকার সাংগঠনিক মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হোক। প্রয়োজনে বর্তমান মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা অথবা বিকল্প প্রার্থী মূল্যায়ন করা হোক।”

 

সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন বঞ্চিত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী জসিম উদ্দিন ভাট, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, বিএনপি নেতা কাজী মাহবুবুল আলম গোলাপ, সাবেক পৌর মেয়র মোহাম্মদ আব্দুল করিম, সরকার শাহানুর ইসলাম রনি এবং সৈয়দ আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।