খালেদা জিয়াকে অবশেষে লন্ডন নেয়া হচ্ছে

119
sharethis sharing button

ঢাকাঃ অবশেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেয়া হচ্ছে আজ। সফরসঙ্গী ৭জন চিকিৎসকসহ ১৪ জন, চিকিৎসা হবে লন্ডন ব্রিজ হাসপাতালে দেশে আসতে পারেন ডা. জুবাইদা রহমান।

সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার ভোরে কাতারের আমিরের দেয়া রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে লন্ডনে নেয়া হবে। সেখানে লন্ডন ব্রিজ হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়াকে ভর্তি করানো হবে বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে লন্ডনে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবগত করতে চাই, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার আলোকে যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তাহলে কাতার রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে উনাকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পরে অথবা শুক্রবার সকালের ভেতরে ইনশাল্লাহ যুক্তরাজ্যে অর্থাৎ লন্ডনে একটি নির্ধারিত হসপিটাল ঠিক করেছি, সেখানে আমরা উনাকে নিয়ে যাবো।

ডা. জাহিদ বলেন, তাঁর যাওয়ার সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক এবং বাইরের দু’জন চিকিৎসক উনার সঙ্গে থাকবেন। যাতে উনার যাত্রাপথে কোনো ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যেও সুস্থভাবে বিমানে চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আমরা ইনশাল্লাহ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পরে অথবা শুক্রবার ভোরের মধ্যে উনাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাবো মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে।
প্রফেসর জাহিদ বলেন, আমরা দেশবাসীসহ দেশের বাইরে হাজারো-লক্ষ মানুষের কাছে দোয়া চাই। যারা এতো দেশনেত্রীর সুস্থতায় দোয়া করেছেন। সেজন্য আমরা কতৃজ্ঞ। আপনাদের এই দোয়ায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে তুলবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিনী জোবাইদা রহমান এবং উনার কন্যা জায়মা রহমান, দেশনেত্রীর ছোট ছেলের সহধর্মিনী সৈয়দা শর্মিলা রহমানসহ তাদের দুই কন্যা জাফিয়া ও জাহিয়া রহমান, উনার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে দোয়া চাই, দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

অন্তর্বর্তী সরকারেরর প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টাগণ, সেনা বাহিনীসহ তিন বাহিনী প্রধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এভারকেয়ার হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক-নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারি, চীন, রাশিয়া, কাতার, সোদি আরব, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান দূতাবাসের সব ধরনের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. জাহিদ।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, আমরা মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোনো কিছু চিন্তা করছি না। মেডিকেল বোর্ড বুধবার তিনবার ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন। ফিজিক্যালি দেখেছেন উনাকে যুক্তরাজ্য ও চীনের ডাক্তাররা। এই মুহূর্তেও যুক্তরাজ্যের ডাক্তার ও চীনের ডাক্তারদের সাথে আলাপ হয়েছে। আমরা আল্লাহর রহমতে আশাবাদী, ইনশাল্লাহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর অশেষ রহমতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, এবারো ইনশাল্লাহ উনি আবারো আমাদের মাঝে ফেরত আসবেন। এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে বৈঠকে বসে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড। এতে যুক্তরাজ্য ও চীন থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসরকরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন এজেডএম জাহিদ হোসেন।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এখানে ঢাকায় পৌঁছাবে। শুক্রবার ভোরের মধ্যে খালেদা জিয়াকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স লন্ডন যাত্রা করবে।

দীর্ঘদিন খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত বছরের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। চলতি বছরে ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হয় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির দেওয়া রয়েল অ্যাম্বুলেন্সে করে। সেখানকার লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন তিনি। চার মাস চিকিৎসা শেষে ৬ মে কাতারের আমিরের দেওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপাসনকে। এরপর থেকে তিনি সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে রয়েছেন বলে জানিয়ে আসছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
১২ দিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁকে নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বেগে রয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রফেসর শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা রয়েছে। বাকি সমস্যাগুলো অনেকটাই অপরিবর্তিত।

বুধবার রাতে চীন থেকে দেশটির চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় আসেন। রাতেই তাঁরা খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডে যোগ দেন। এর আগে দুপুরে যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বেলে। তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। খালেদা জিয়াকে দেখেন। এই চিকিৎসকেরা বুধবারই খালেদা জিয়ার সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো দেখেছেন।
সফরসঙ্গী ১৪ জন : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতার আমিরের রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে নেওয়া হচ্ছে।

এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোট ১৪ জন সফরসঙ্গী থাকবেন। তারা হলেন- খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামীলা রহমান, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, চিকিৎসক ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকি, চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, চিকিৎসক নূরউদ্দিন আহমদ, চিকিৎসক মো. জাফর ইকবাল, চিকিৎসক মোহাম্মদ আল মামুন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) হাসান শাহরিয়ার ইকবাল, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সৈয়দ সামিন মাহফুজ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সহকারী মো. আবদুল হাই মল্লিক, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব মো. মাসুদুর রহমান, গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ও গৃহকর্মী রূপা শিকদার।

ড. এনামুল হক বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে কাতার থেকে পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবারের মধ্যে খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেওয়া হবে।

দেশে আসতে পারেন জোবাইদা রহমান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যেতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, দেশবাসীর অনিঃশেষ দোয়া-আন্তরিকতা ও কূটনীতিকদের সহযোগিতায় তাঁর শারীরিক অগ্রগতি হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। উন্নত ও সর্বাধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ম্যাডামকে অতি শিগগিরই লন্ডনের হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মাহদী আমিন আরো লেখেন- এই চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ডা. জোবাইদা রহমান, যিনি লন্ডন থেকে সার্বিক সমন্বয় করে যাচ্ছেন। তিনি আজই (গতকাল) দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে কাল (আজ) সকালে ঢাকা পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন, যেন সাথে থেকে দেশনেত্রীকে কাতারের অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন নিয়ে যেতে পারেন। তবে তার আগেই যদি ফ্লাইট ব্যবস্থা করা যায় কিংবা তাঁর আসা না হয়, সেই বিবেচনায় লন্ডনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিল ইতোমধ্যে ঢাকায় এসেছেন। ম্যাডামের পুত্রবধু শর্মিলা রহমান, কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তাও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সার্বক্ষণিক পাশে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

তিনি লেখেন, চলমান প্রক্রিয়ার প্রতিটি বিষয়, অর্থাৎ মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত ব্রিফিং, লন্ডনের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কাতারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রস্তুতি, দেশনেত্রী ও ডা. জোবাইদা রহমানের ভ্রমণের ব্যবস্থাপনা — সবকিছুর তত্ত্বাবধান করছেন তারেক রহমান। তিনি শুধু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন; একাধারে শহীদ জিয়া ও আপোষহীন নেত্রীর আদর্শবাহী সন্তান; যাঁর কাছে দায়িত্ববোধ, মাতৃস্নেহ ও দেশপ্রেম একে অপরের পরিপূরক। তারেক রহমান যদি পপুলার পলিটিক্সকে প্রাধান্য দিয়ে দেশে ছুটে আসতেন, তাহলে তিনি চিকিৎসক স্ত্রীর সঙ্গে একযোগে নিখুঁতভাবে যে তদারকি করছেন, তা কি এভারকেয়ার হাসপাতালের হৈচৈ, ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে করা যেত?

মাহদী আমিন বলেন, তারেক রহমানের দেশে আসা মানেই লক্ষ-লক্ষ মানুষের ঢল, জনসমুদ্রের উত্তাল আবেগ, যা জনগণের আবেগ ও ভালোবাসা হলেও, অন্যান্য রোগী, চিকিৎসা পরিবেশ, এমনকি দেশনেত্রীর নিজের জন্যও কতটা ভালো হতো?
তিনি লেখেন, সিসিইউতে থাকা মায়ের জন্য এমন কোন যৌক্তিক দায়িত্ব ছিল, যা তারেক রহমান দেশে গণমানুষের ভালোবাসায় সৃষ্ট ভিড়ের মাঝে করতে পারতেন; কিন্তু নিরিবিলিতে লন্ডন থেকে বিশেষজ্ঞ, হাসপাতাল ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় নিশ্চিত করে আরও সুচারুভাবে করছেন না? ম্যাডাম যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাবেন ইনশাআল্লাহ, যদি দেশে আসতেন, তখন কি তারেক রহমান এখানে থেকে যেতেন, নাকি মায়ের সঙ্গে চলে যেতেন? থেকে গেলে অতিউৎসাহী গোষ্ঠী বলতো, তিনি মায়ের সাথে কেন গেলেন না; আর চলে গেলে বলতো, তিনি নির্বাচনের জন্য কেন থাকলেন না?

তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা বলেন, সুতরাং তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, মায়ের সুস্থতা ও দেশের স্থিতির স্বার্থে। তিনি একই সঙ্গে সন্তানের দায়িত্ববোধে নিবেদিত, আবার জাতীয় নেতার দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ। মনে রাখা প্রয়োজন, তারেক রহমানের কাছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া প্রথমে মা, তারপর নেত্রী। মায়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসার সাথে আমাদের কারো ভালোবাসার তুলনা করা অন্যায়, অবিচার। তিনি তাঁর মায়ের জন্য যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটিই করছেন, সেটিই করে যাবেন।
তিনি লেখেন, তারেক রহমানকে দল ও দেশের স্বার্থ একই সাথে দেখতে হচ্ছে। অগণতান্ত্রিক আধিপত্যবাদিদের ষড়যন্ত্র কখনোই শেষ হওয়ার নয়। সেটিকে প্রজ্ঞা ও বাস্তবতার সাথে প্রতিহত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব। বেগম খালেদা জিয়ার সারা জীবনের সংগ্রামের মূল প্রতিজ্ঞা হলো, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা।

সেই ঐতিহ্যগত অভিযাত্রায়, ব্যক্তিগত আবেগেকে ধারণ করলেও, তারেক রহমানকে যুক্তিকেই প্রাধান্য দিতে হচ্ছে। ম্যাডাম ইনশাআল্লাহ নিরাপদে লন্ডনে পৌঁছালে, উনাকে একটু সেটেল করে দিয়ে ও স্থানীয় সব ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করে, শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে গভীর ভালোবাসায় বরণ করে নিতে প্রস্তুত বিএনপি, প্রস্তুত প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ। আসুন, এই কঠিন সময়ে অপপ্রচারকে পেরিয়ে, আমরা দেশনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য আন্তরিক দোয়া করি। আল্লাহ তাঁকে সুস্থ করুন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আমাদের মাঝে দীর্ঘকাল রাখুন, আমিন।