জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তীরে এসে তরী ডুবালো

102
ঢাকাঃ জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে অভ্যুত্থানের নূন্যতম যে অর্জন টুকু হতে পারতো তাড়াহুড়ো এবং গোঁয়ার্তুমি করে সেটুকু ও শেষ করে দিলো ।তীয় সনদ বলে যে দলিলটি সাড়ম্বরে স্বাক্ষর করার দিন তারিখ ঠিক করা হচ্ছে কার্যত এটি তিন জোটের রূপরেখার চাইতেও দুর্বল একটি দলিল।
অথচ অনেক গুলো মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। সনদের আইনগত ভিত্তি দেওয়ার জন্য একটি গণভোট করা, গণভোটের জন্য একটি আদেশ অথবা অর্ডিন্যান্স জারি করা, আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার এবং সরকার পরিচালনা, উভয় ধরনের ক্ষমতা দেওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের নির্বাচন করা, সংসদের প্রথম দিকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন বিষয়গুলোকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া , মোটিদাগে এসব বিষয়ে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল একমত হতে পেয়েছিলো ।
মূল বিরোধ ছিলো উচ্চকক্ষে পি.আর হবে কিনা সে বিষয়ে। উচ্চকক্ষে পি আর মেনে নিলে অন্যান্য রাজনৈতিক দল বাকী পার্থক্য গুলো নিরসন করতে সম্মত ছিলো ।
এখানে এসেই কতিপয় রাজনৈতিক দল এবং ঐক্যমত কমিশন আর কোন সময় না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে আলোচনায় সমাপ্তি টানে।
পরবর্তীতে প্রধানত তিনটি রাজনৈতিক দল এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে বসে এখন যে দলিল প্রস্তাব করেছে তা এক কথায় তীরে এসে তরী ডুবানোর সমার্থক হয়ে গেছে।
এতে সায় দেওয়া যায় না । এতো সহজে সব কিছু ধ্বংস করে ফেলার অধিকার কোন দল কিংবা গ্রপ কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেওয়া হবে না। হাজারো মানুষের জীবন এতো সস্তায় ডুবিয়ে দেওয়া কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
হাসনাত কাইয়ূম
সভাপতি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন