দেশের মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে রয়েছে: তারেক রহমান

165

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সামনে অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ, যেখানে দেশের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে তাকিয়ে রয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একতার অভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব নয়।

রোববার (১০ আগস্ট) রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আধা ঘণ্টার বক্তব্যে তারেক রহমান রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং দলীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, বিগত আড়াই বছর আগে আমরা ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা বিএনপি আগেই দাবি করেছিল। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো জনগণের আস্থা অর্জন এবং ওই ৩১ দফার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

 

 

 

তারেক রহমান আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই অধিকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন এই অধিকার নিশ্চিত করবে। কিন্তু শুধু ভোট আর সরকার গঠন যথেষ্ট নয়, দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। তখন মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য ছিল। আমাদের উচিত নিজস্ব দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স গড়ে তোলা, যাতে দেশের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে এবং কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে।

 

 

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে এ সময় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

রাজশাহী মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, দায়িত্বে দুই কেন্দ্রীয় নেতা

রাজশাহী মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, দায়িত্বে দুই কেন্দ্রীয় নেতা

 

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন হলেও নতুন কমিটি ঘোষণা হয়নি। তবে পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটি ঢাকা থেকে ঘোষণা করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন কমিটি না আসা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর বিএনপির দায়িত্বে থাকবেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতা।

রোববার মহানগর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে এ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাতে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুল হক মন্টু এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের নির্দেশে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। মহানগর বিএনপির দায়িত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম ও এএইচএম ওবায়দুর রহমান চন্দন।

এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রোববার বিকালে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মহানগরীর একটি তিন তারকা হোটেলের সম্মেলন কক্ষে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন এক ডজন নেতা। দ্বিতীয় অধিবেশনে নেতৃত্ব নির্বাচনে দলীয় কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দলটির শীর্ষ নেতারা কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। পদপ্রত্যাশীদের দলের প্রতি অবদান, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীতের কর্মকাণ্ডসহ সবকিছু বিশ্লেষণের পরে ঢাকা থেকে কমিটি ঘোষণা করা হবে।

 

এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর এরশাদ আলী ঈশাকে আহ্বায়ক ও মামুন অর রশিদ মামুনকে সদস্য সচিব করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আহ্বায়ক কমিটির পরিধি বাড়িয়ে ৬১ সদস্যের করা হয়।

 

তারপর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এই আহ্বায়ক কমিটিতেই রাজশাহী মহানগর বিএনপি চলছিল। এই কমিটিতে যোগ্য নেতৃত্ব আসেনি- এমন অভিযোগ তুলে দলটির রাজশাহীর শীর্ষ নেতারা তাদের সঙ্গে কোনো সভা-সমাবেশে অংশ নিতেন না। বিরোধ ছিল অনেকটাই প্রকাশ্যে।

 

এ বিরোধের জের ধরে দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। কিছুদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। অবশেষে রোববার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।

 

এর আগে ২০০৯ সালে মহানগর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠান হয়। প্রায় দেড় দশক পর আনুষ্ঠানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।