অনলাইন ডেস্কঃ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মারাত্মক অর্থ সংকটে বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ মানবিক সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।
ইউএনএইচসিআর-এর বহিঃসম্পর্ক বিষয়ক পরিচালক ডোমিনিক হাইড বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ ইউএনএইচসিআর-এর সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।”
যেসব দেশ তাদের অনুদান কমিয়েছে তাদের নাম প্রতিবেদনে না থাকলেও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান কমে যাওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। গত বছর ইউএনএইচসিআর-এর মোট অনুদানের ৪০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল, যার পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ইউএনএআইডি ও বৈশ্বিক সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যয় হ্রাসের নীতি অনুসরণ করছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, বর্তমানে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কর্মসূচি বন্ধ বা স্থগিত করতে হয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সুদান, মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসা, শিক্ষা, আশ্রয়, পুষ্টি এবং সুরক্ষা—এই মৌলিক খাতগুলোতে ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে।
বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশুর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশেষভাবে নারী ও কিশোরীরা এই সংকটের সবচেয়ে বেশি শিকার। ইউএনএইচসিআর-এর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচির ২৫ শতাংশ বাজেট কাটা হয়েছে। আফগানিস্তানের নারীরা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হাইড আরও বলেন, “আত্মরক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য যে কার্যক্রমগুলো চালু ছিল—তা ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাস করা হয়েছে।”
বিশ্বব্যাপী সংস্থাটি এখন ৩ হাজার ৫০০ কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে, যা সদর দফতর জেনেভা ও আঞ্চলিক অফিসগুলোতে প্রভাব ফেলছে।
এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে এসেছে যখন সম্প্রতি জাতিসংঘের ২০২৫ গ্লোবাল এইডস আপডেট সতর্ক করে বলেছে—বৈশ্বিক সহায়তার অর্থ হ্রাসের ফলে এইচআইভি/এইডস এর ক্ষেত্রে দশকের অর্জনগুলো হারিয়ে যেতে পারে। নতুন অর্থ না এলে ২০২৯ সালের মধ্যে ৬ মিলিয়ন নতুন সংক্রমণ এবং ৪ মিলিয়ন অতিরিক্ত এইডসজনিত মৃত্যু ঘটতে পারে।



