উত্তরাতে বিএনপির ৩১ দফা প্রচার ও লিফলেট বিতরণ: কফিল উদ্দিন

232

ঢাকাঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাৎপর্য বহুমাত্রিক এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য যা যা থাকা প্রয়োজন তার সবই রয়েছে এই ৩১ দফা কর্মসূচিতে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই ৩১ দফা নিয়ে আলোচনা এবং পর্যালোচনা হচ্ছে। তিনি উত্তরাতে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন ।

আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর উত্তরায় রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কফিল উদ্দিন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। আর তার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ গড়তে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন। এই ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যে একটি দেশের জন্য, উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই আছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে রক্ষার জন্য তারেক রহমান কাজ করছেন। ৩১ দফা কর্মসূচি তার প্রতিফলন, যা ইতোমধ্যে সারাদেশে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বিএনপি যে লক্ষ্য ও বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছে, তার বিশেষ কয়েকটি পয়েন্ট নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশে একটি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ৩১ দফার বড় একটি অংশ এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণীত।

এর মাধ্যমে দলটি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার করছে।

২. সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা

সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এতে অন্তর্ভুক্ত।

এটি জনগণের আস্থাবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।

৩. মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের অপব্যবহার বন্ধ, গুম-খুন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের কৌশল হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

৪. সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন

একদলীয় শাসনের পথ রুদ্ধ করতে ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সংসদ ও প্রশাসনের মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

৫. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সমাজকল্যাণ

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কৃষি-শিল্প খাতে সমতা আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এটি সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ।

৬. তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা

যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা, শিক্ষা সংস্কার, ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়ন এগুলো তরুণদের আকৃষ্ট করার কৌশল।

৭. রাজনৈতিক সংস্কার ও সহনশীলতা।

এছাড়াও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার রূপরেখা, জনগণের মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্র কাঠামো গড়ার অঙ্গীকার, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রচেষ্টা প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা অর্জন ও একগুঁয়েমি না করে সকল অংশের সাথে সংলাপের মাধ্যমে এগোলে এই কর্মসূচিগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও গভীর হবে।

নিচে বিএনপি’র ৩১ দফা দাবি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো:

বিএনপি’র ৩১ দফা দাবি (সম্পূর্ণ তালিকা):

১. একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
২. জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৩. বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন।
৪. ইভিএম বাতিল করে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
5. দমন-পীড়নমূলক আইন (যেমন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) বাতিল।
৬. গণমাধ্যম, মতপ্রকাশ, ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৭. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ তুলে স্বাধীন সংস্থা গঠন।
৮. রাষ্ট্রের সকল স্তরে জবাবদিহিতামূলক সরকার ব্যবস্থা গঠন।
৯. আইন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত।
১০. মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জড়িতদের বিচার।
১১. রাজনৈতিক গুম, খুন, নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধ।
১২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
১৩. দুদক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
১৪. বিদ্যমান রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার।
১৫. রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও সকল নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত।
১৬. শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয় নীতি প্রণয়ন।
১৭. স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সহজলভ্য ও বিনামূল্য করা।
১৮. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা।
১৯. কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা।
২০. বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান নিশ্চিত।
২১. আয় ও সম্পদের বৈষম্য হ্রাস।
২২. নারী, শিশু, সংখ্যালঘু, ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা।
২৩. বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষা।
২৪. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন।
২৫. রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ করা।
২৬. সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।
২৭. সংবিধান ও আইনে ধর্ম নিরপেক্ষতার মূলনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
২৮. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ।
২৯. দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক মূল্যায়ন ও প্রচার।
৩০. পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার।
৩১. স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীসহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবিএমএ রাজ্জাক, উত্তরের সদস্য মোতালেব হোসেন রতন, তুরাগ থানা বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, দক্ষিণখান থানার সাবেক সভাপতি শাহাবুদ্দিন সাগর, বিমানবন্দর থানার সাবেক সভাপতি জুলহাস পারভেজ, উত্তরা-পূর্ব থানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এফ ইসলাম চন্দন প্রমুখ।