‘ডিকটেটর জেলেনস্কি’র উচিৎ হয়নি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া: ট্রাম্প

155
বিশ্ব ডেস্কঃ ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘ডিকটেটর’ অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে তিনি ভয়াবহ কাজ করেছেন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ ও এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘মোটামুটি সফল কৌতুক অভিনেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে রাজি করিয়েছেন এমন এক যুদ্ধের জন্য যেখানে জেতা সম্ভব নয়, যেটা শুরু করাই উচিৎ হয়নি এবং এটি এমন এক যুদ্ধ যেটা তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও “ট্রাম্প”কে ছাড়া কখনোই সমাধান করতে পারবেন না।’

‘যুক্তরাষ্ট্র (এই যুদ্ধে) ইউরোপের চেয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে, যেখানে ইউরোপের অর্থায়ন গ্যারান্টিড এবং যুক্তরাষ্ট্র কিছুই ফিরে পাবে না। এই যুদ্ধ আমাদের চেয়ে ইউরোপের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও “স্লিপি জো বাইডেন” কেন সমতা দাবি করেননি—যেখানে আমাদের আলাদা করেছে এক বিশাল, সুন্দর মহাসাগর।’

‘তার ওপর জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে আমরা তাকে যে অর্থ দিয়েছি তার অর্ধেকরই ‘হদিস নেই’। তিনি নির্বাচন দিতেও রাজি হননি, কারণ ইউক্রেনের জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা খুবই কম এবং তিনি কেবল বাইডেনকে ‘বাদ্যযন্ত্রের মতো বাজানো’তে নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন।’

‘নির্বাচন না দেওয়া ডিকটেটর জেলেনস্কি যদি দ্রুত সব সমাধান না করেন, তাহলে তার কাছে আর কোনো দেশই থাকবে না। এরই মধ্যে আমরা সফলভাবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করছি এবং যে বিষয়টি সবাই স্বীকার করে যে একমাত্র “ট্রাম্প” এবং ট্রাম্প প্রশাসনই এটা করতে পারবে। বাইডেন কখনো চেষ্টা করেননি, ইউরোপ শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জেলেনস্কি সম্ভবত এই চান এই পরিস্থিতি চলতে থাকুক।’

‘আমি ইউক্রেনকে ভালোবাসি, কিন্তু জেলেনস্কি এক ভয়াবহ কাজ করেছেন। তার দেশ বিধ্বস্ত, লাখো মানুষ অকারণে মারা গেছেন এবং এই ধ্বংসযজ্ঞ এখনো চলছে।’

 

ট্রাম্প বিভ্রান্তিকর তথ্যের জগতে বাস করছেন: জেলেনস্কি

 

 

 

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।  তার মতে, রাশিয়ার তৈরি করা বিভ্রান্তিকর তথ্যের জগতে বাস করছেন ট্রাম্প।

আজ বুধবার সিএনএন ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল চলমান যুদ্ধের জন্য কিয়েভকে দায়ী করার পাশাপাশি জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন ট্রাম্প। বলেন, মাত্র চার শতাংশ ইউক্রেনীয় তাকে সমর্থন দিচ্ছে।

এর জবাবে আজ কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, ‘জনপ্রিয়তা নিয়ে আমি কখনো মন্তব্য করি না, বিশেষ করে নিজেরটা নিয়ে। কিন্তু সর্বশেষ জরিপেই দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ ইউক্রেনীয়র আস্থা আছে আমার ওপর।’ ‘সুতরাং, আমাকে সরানোর চেষ্টা করলে তা কাজ করবে না,’ যোগ করেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবিগুলোকে মস্কোর প্রচারণা বলেও মন্তব্য করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।  তিনি বলেন, ‘রাশিয়া থেকে প্রচুর বিভ্রান্তিকর তথ্য আসছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প–জাতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং নেতা হিসেবে তাকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি—কিন্তু তিনি এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের জগতে বাস করছেন।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জেলেনস্কি আবার জোর দিয়ে বলেন, ‘ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে এই যুদ্ধের কোনো সমাধান সম্ভব না।’

মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে বৈঠক হয়, যেখানে ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এই বৈঠকে ইউক্রেন শান্তি আলোচনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। নিজেদের মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনস্থাপনের ঘোষণাও দেয়। এই বৈঠকে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর ওপর ওয়াশিংটনের দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ব্যাপারে জেলেনস্কি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া বিশ্ব মঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন। পুতিনকে এই বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি দিচ্ছে তারা।’

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় বর্ষে পা দিতে যাচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে। এই তিন বছর ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে সম্প্রতি দেশটির কাছ থেকে তেল-গ্যাসের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের বিরল খনিজ দাবি করেছেন ট্রাম্প।

এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি ইউক্রেনকে বেঁচে দিতে পারি না।’ যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে গুরুত্বসহকারে কোনো প্রস্তাব পাঠালে তিনি চুক্তি করতে রাজি হবেন বলেও জানান জেলেনস্কি।