“টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমার মাঠে মতবিরোধ: সংঘর্ষে ৫ জন নিহত শতাধিক হতাহত, পরিস্থিতি উত্তপ্ত”

191

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখল নিয়ে যোবায়ের ও সাদপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক মুসল্লি। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে শুরু হয় সংঘর্ষ। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিব ইস্কান্দার নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

 

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষে নিহত ৩ - e-kantho24.com

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা ‘জুবায়েরপন্থি’ ও ‘সাদপন্থি’দের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ও শতাধিক তারও বেশি আহত হয়েছেন।

জানা গেছে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত রাত ৩টার দিকে সাদপন্থিরা তুরাগ নদীর পশ্চিম তীর থেকে কামারপাড়া ব্রিজসহ বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন। এ সময় মাঠের ভেতর থেকে যোবায়েরপন্থিরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে সাদপন্থিরাও পাল্টা হামলা চালান। একপর্যায়ে সাদপন্থিরা মাঠে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তাবলিগ জামাতের যোবায়েরপন্থিদের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান ও মাওলানা সাদপন্থিদের মিডিয়া সমন্বয়ক আবু সায়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংঘর্ষে নিহতরা হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার এগারসিন্দু গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৭০) ও ঢাকার দক্ষিণ খানের বেড়াইদ এলাকার বেলাল (৬০)। আর দুইজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

টঙ্গীতে বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে সংঘর্ষের ঘটনায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে ওখানে।

মূলত, মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিন টার দিকে ইজতেমা মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা ‘জুবায়েরপন্থি’ ও ‘সাদপন্থি’দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে তিন জন নিহত ও শতাধিক তারও বেশি আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ধরনের বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকার কিছু এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি

ঢাকার কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা সেক্টর-১০ এবং তুরাগ নদীর দক্ষিণ, পশ্চিম এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি’র গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ সম্বন্ধে তিনি বলেন, তাবলীগ জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে যেন আর কোনও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

https://fb.watch/wy_q5AnD2R/