বিএনপির শোভাযাত্রায় নয়াপল্টনে সহ আশেপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল

171

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরুর আগে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। শোভাযাত্রায় যোগ দিতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন তারা।

নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি কাকরাইল মোড়, মৎস্য ভবন মোড়, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, শাহবাগ মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলা মোটর মোড়, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনলাইনে সমাপনী বক্তব্য দেবেন।

শোভাযাত্রায় আরও উপস্থিত থাকবেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জ্যেষ্ঠ নেতা, মহানগর নেতা এবং সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

নয়াপল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আগে বিএনপি নেতাকর্মীদের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এর আগে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে রঙিন টিশার্ট পরে, প্ল্যাকার্ড হাতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা।

স্বৈরাচারের দোসরেরা দেশে–বিদেশে সক্রিয়ঃতারেক রহমান

৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে সমাবেশ শেষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে। গতকাল বাংলামোটর এলাকায়

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এবং নিজেও সতর্ক থাকবেন উল্লেখ্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরেরা দেশে–বিদেশে ও প্রশাসনে এখনো সক্রিয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

\গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরেরা দেশে–বিদেশে ও প্রশাসনে এখনো সক্রিয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

নয়াপল্টন থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ—প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পথে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে কার্যত বিএনপি জনশক্তি প্রদর্শন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দিল। শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই মিছিল দেশের স্বার্থ রক্ষার মিছিল, নিজের ভোট প্রয়োগের অধিকার রক্ষার মিছিল।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

‘গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র এখনো কিন্তু থেমে নেই’         তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বিএনপি

বিকেল পৌনে পাঁচটার পর শোভাযাত্রার সম্মুখভাগটি যখন মানিক মিয়া পৌঁছায়, তখন একটি মিনি ট্রাকের ওপর বানানো অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী মাইকে আগন্তুকদের উদ্দেশে বলেন, নয়াপল্টন থেকে সংসদ ভবনের সামনে এই শোভাযাত্রা কেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে জাতীয় সংসদ। এত দিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তারা ভোট দিয়ে এই সংসদে জনগণের প্রতিনিধি পাঠাতে চায়। এই বার্তা আমরা দিতে চাই। এটাই এই র‍্যালির উদ্দেশ্য।’

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস উপলক্ষে বিএনপি এ শোভাযাত্রা বের করে। বেলা সাড়ে তিনটায় নয়াপল্টন থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। সন্ধ্যায় সোয়া ছয়টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাতটায়ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর উদ্দেশে যাত্রা করা শোভাযাত্রার মিছিল কারওয়ান বাজার এলাকা পার হতে দেখা যায়। বিএনপির নেতারা এটাকে স্মরণকালের বড় শোভাযাত্রা বলে মন্তব্য করেন।

‘এই মিছিল দেশের স্বার্থ রক্ষার মিছিল’

 

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান বলেন, রাজপথে লাখো জনতার এ মিছিল দেশের স্বার্থ রক্ষার মিছিল, নিজের অধিকার রক্ষার মিছিল, নিজের ভোট প্রয়োগের অধিকার রক্ষার মিছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য প্রত্যেক নাগরিক সরাসরি ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার সক্ষমতা অর্জন করলেই তা সম্ভব।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জনগণের ভোটের প্রতি মুখাপেক্ষী না করা পর্যন্ত মানুষ গণতন্ত্রের সুফল পাবে না। এমনকি স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশেও স্বল্প আয়ের মানুষকে বাজার সিন্ডিকেটের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যদি মানুষের সরাসরি ভোটের অধিকার আমরা নিশ্চিত করতে না পারি।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা প্রিয় জনগণকে আমি একটি বিষয় আবারও স্মরণ করিয়ে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাতে চাই, আমি নিজেও সতর্ক থাকতে চাই, সেটি হলো গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র এখনো কিন্তু থেমে নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরেরা দেশে-বিদেশে, শাসনে-প্রশাসনে এখনো সক্রিয়।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চেনার দিন। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের শত্রু চিহ্নিত করার দিন। বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর কেউ দেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারবে না।

 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানী নয়াপল্টনে

এখানে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনো কিছু চলবে না: মির্জা ফখরুল

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির শোভাযাত্রা শুরুর আগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনো কিছু চলবে না।

আজ শুক্রবার বিকেলে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির শোভাযাত্রা শুরুর আগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭ নভেম্বর শুধু একটি দিন নয়। এই দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন। ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করার দিন। এর আগে ৩ নভেম্বর অভ্যুত্থান হয়েছিল। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে আবার আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা এবং একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দেশপ্রেমিক সৈনিক আবার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করে স্বাধীনতার ঘোষক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। এই ইতিহাস বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস, বাংলাদেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার ইতিহাস, বাংলাদেশের মানুষকে স্বাতন্ত্র্য পরিচিতি দেওয়ার ইতিহাস।’

 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে যে জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে, পরবর্তীকালে খালেদা জিয়া তার পতাকা তুলে ধরেছেন। তারপর আবার সেই পতাকা তুলে ধরেছেন আমাদের আজকের নেতা তারেক রহমান।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের নেতাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে। এ বছর আমরা আরেকটা অভ্যুত্থান দেখেছি, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা লড়াই-সংগ্রাম করেছি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এই ১৭ বছরে পরিকল্পিতভাবে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছিল, দেশকে লুটপাটের রাজ্যে পরিণত করেছিল। শেখ হাসিনা তার দোসরদের নিয়ে এই দেশকে লুটপাট করেছে। এই ১৭ বছরে আমাদের অনেকে মানুষ নিহত হয়েছে। অনেক মানুষ গুম হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারপর ছাত্র-জনতার অভুতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ সৃষ্টি করার সুযোগ হয়েছে। এই অভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়েছে। সে পালালেও তার দোসররা এখানে আছে। তারা আবার আক্রমণ করবে। আমরা আমাদের র‍্যালিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করব। কোনো সংকট এলে আমরা অবশ্যই মোকাবিলা করব। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রকামী সৈনিকরা এবং দেশের মানুষরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং আছেন।

‘আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেই যে, এখানে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনো কিছু চলবে না। আর কোনো স্বৈরাচার সুযোগ পাবে না, আমরা পরাজিত করব,’ বলেন মির্জা ফখরুল।

এরপর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালি উদ্বোধনের আহ্বান জানান। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অভিমুখে র‍্যালি শু