আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। পুরনো বন্ধু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বসিত ড. ইউনূস, মনে করা হচ্ছে যেতে না পারা ১৮ হাজার কর্মীর মালয়েশিয়ার দরজা খুললো। মে মাসের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রবেশ করতে না পারা প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়টি বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
ঢাকাঃ আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এক ব্রিফিংয়ে মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী টিকিট জটিলতায় দেশটিতে যেতে না পারা ১৮ হাজার শ্রমিককে দেশটিতে নিতে তার সরকার সহায়তা দেবে বলে জানান। বলেন, প্রথম ধাপে ৭ হাজারের বেশি শ্রমিক নেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সকল শর্তপূরণ সাপেক্ষে বাকিদেরও নেয়া হবে। এর আগে দুপুর ২টার দিকে সাড়ে ৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে আসেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তার সঙ্গে তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৫৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছিলেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনোয়ার ইব্রাহিমকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। পরে দুই নেতা সেখানে একান্ত বৈঠক করেন।
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানানোর পর সেখানে তার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে ড. ইউনূস সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় পুরোনো বন্ধুকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি ‘খুব খুশি’।
ড. ইউনূস এসময় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, আত্মত্যাগ এবং বিগত সরকারের গণহত্যা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানকার নেতৃত্বের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন।
পরে তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে একই গাড়িতে চড়ে দ্বিপাক্ষিক ভেন্যুতে যান। এর আগে দুপুর ২টায় সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় পৌঁছান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সফর সূচি অনুসারে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে তার ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
পরবর্তীতে, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে আলোচনা করবেন যেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম অভিবাসন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সম্পর্কিত বিস্তৃত বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি এখানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা কামনা করবে। পাশাপাশি আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে একটি ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, পরবর্তীতে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
সংক্ষিপ্ত সফর শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।



