বর্তমান সরকারের আড়াই মাসে গতি ফিরছে অর্থনীতিতে

37

ঢাকাঃ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে অনিয়ম-লুটপাট-অর্থপাচার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের ভুল নীতির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। এর সঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাতের মতো দুঃসময়ে পড়ে যায় দেশ। যুদ্ধের কারণে টালমাটাল বৈশ্বিক পরিস্থিতিÑ বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘœ এবং মূল্যস্ফীতির চাপসহ নানামুখী চাপে পড়ে দেশের অর্থনীতি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বর্তমান সরকার প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। ইসরাইল-আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এর সঙ্গে রাজস্ব আয় আশানুরূপ না হওয়ায় নতুন সরকারকে বর্তমানে ঋণ করে চলতে হচ্ছে। অবশ্য নতুন সরকারের কাছে এর বিকল্পও ছিল না। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে এখন। তবে নতুন সরকারের আড়াই মাসে ভঙ্গুর অথনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে।

facebook sharing button
sharethis sharing button

 

আশার কথা হচ্ছেÑ তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী কিছু পদক্ষেপে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে থেকে ধীরে ধীরে বের হচ্ছে সরকার। অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের কারণে নানামুখী চাপ বিরাজমান, তারপরও দেশের অর্থনীতি এখনো সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের ‘পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬-এ দাঁড়িয়েছে। সূচকের এ প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত করছে, দেশের অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। এ উন্নতির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে কৃষি ও উৎপাদন খাত। রেমিট্যান্স প্রবাহ পজেটিভ। সামনে ঈদুল আজহা। এতেও অর্থনীতির গতি কিছুটা বাড়বে।

তবে দেশের নির্মাণ খাতের অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক। পাশাপাশি সেবা খাতের গতি কিছুটা মন্থর। ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচকের তথ্য বলছে, কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও সেবাসহ অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোতে আগামী মাসগুলোতে আরো দ্রুত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের আস্থার ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ আট মাস পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রফতানি আয়। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারের রফতানি হয়েছে। এছাড়া চাঙ্গা রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। যে কারণে দীর্ঘ চাপ ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে আবারো শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে শুরু করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গত বৃহস্পতিবার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এদিকে সামনে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে চলতি মাসে আরো চাঙ্গা হবে গ্রামীণ অর্থনীতি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর নতুন সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিকদের গ্রামে পদচারণা গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। ঈদকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা, যাতায়াত, জাকাত-ফিতরা, বেতন-বোনাস, কোরবানির পশু ক্রয় এবং এ জন্য বাড়তি রেমিট্যান্সে অর্থনীতিতে গতি বাড়াবে। ঈদকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত লেনদেন হয়, যার একটি বড় অংশ গ্রামে প্রবাহিত হয়। যা এপ্রিলের অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে রফতানি খাতে টেকসই গতি ফেরাতে দরকার স্থিতিশীল বাজার ও নীতিগত সহায়তা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে রেমিট্যান্সের ধারা বজায় রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং ইউরোপ-আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশেও জনশক্তি রফতানির সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রবাসী আয় আরো বাড়তে পারে।

জানতে চাইলে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মাসরুর রিয়াজ ইনকিলাবকে বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধসহ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। তবে ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠছে। বহির্বাণিজ্যে এপ্রিল মাস দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল। রফতানি আয় ৩৩ শতাংশ বাড়া অনেক বড় একটি অর্জন এবং স্বস্তির সূচক। মধ্যপ্রাচ্যে অচলাবস্থার মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আমাদের রিজার্ভ বাড়ানোয় কাজে আসবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে এক সংলাপে বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের অগ্রগতি ও নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে থমকে থাকা বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষায় অধিক গুরুত্ব দেয়া, কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত তৈরি করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর দেয়া, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নীতি সহায়তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনবে।

সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবে ভারত পালাতে বাধ্য হন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। তার মন্ত্রী-এমপিদের অনিয়ম-লুটপাট-অর্থপাচারের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু তাদের নানাবিধ ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি আরো খাদের কিনারে চলে যায়। অর্থনীতির অধিকাংশ সূচকই তলানীতে পৌঁছে। এই সময়ে দেশের বেশি কিছু রফতানিমুখী কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে মার্কিন শুল্কের চাপ ও রফতানি খাতে বিনিয়োগ কমতে থাকায় ব্যাহত হয় সার্বিক উৎপাদন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে রফতানিতে। তবে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরায় সুখবর মিলেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দুই সূচকে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, এপ্রিলে ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০২ কোটি ডলার। মূলত তৈরি পোশাক খাতেই এসেছে বড় প্রবৃদ্ধি। এ খাতের রফতানি ৩১ দশমিক দুই-এক শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩১৪ কোটি ডলারের বেশি। অন্যদিকে স্বস্তি দিচ্ছে রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদ এম আবু ইউসুফ বলেন, আমাদের প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। সুতরাং সেখানে কিন্তু ৪৮ বিলিয়ন ডলার কিংবা ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি খুব বেশি না। এটা যাতে আমরা অচিরেই ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারি, সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, যারা ভালো ব্যবসা করে, যারা অর্থনীতিতে অবদান রাখে, তাদেরকে যেন আমরা সামনের দিকে সাহায্য দিতে পারি, সেটি লজিস্টিক হোক কিংবা পলিসি সাপোর্ট হোক। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারাকে অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক ইঙ্গিত। তবে এই প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত ও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং হুন্ডি বন্ধে কঠোর নীতি অব্যাহতের পরামর্শ তাদের। এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ৩১ বিলিয়ন ডলারের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বৃদ্ধি, রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসার কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমছে এবং ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।

এদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা চলতি মাসেই। কোরবানির উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক না হলেও অর্থনীতিতে এর ভূমিকা ব্যাপক। কোরবানি উপলক্ষে যে লেনদেন হয়, অর্থনীতিতে তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোরবানিতে গরু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ বাড়ায়। গ্রামের পশু শহরে আসে। শহরের টাকা গ্রামে যায়। বাংলাদেশে কোরবানির এ সময়ে প্রবাসী আয়ও বেশি আসে। আর কোরবানির গরুর উৎপাদন মূলত গ্রামকেন্দ্রিক। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে কোরবানির ঈদ বড় ভূমিকা রাখে। ঈদ উদযাপনে শহর থেকে কোটি মানুষ গ্রামে ফেরায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বস্ত্র ও মিষ্টির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে গ্রামীণ হাটবাজারগুলো সরগরম হয়ে ওঠে। পরিবহন খাতে ব্যাপক লেনদেন হয় এবং গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বাড়তি মুনাফা অর্জন করেন। একই সঙ্গে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবারের জন্য প্রচুর টাকা পাঠান, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুবাতাস বয়ে আনবে।

উৎসবের অর্থনীতির সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব না থাকলেও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হিসাব বলছে, চলতি মাসেই অর্থনীতিতে অতিরিক্ত আরো দেড় লাখ কোটি টাকা লেনদেন হবে। খাদ্যপণ্য, পোশাক, গহনা, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স, বিনোদন ও পরিবহন খাতে এই বাড়তি অর্থ যোগ হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী, দোকান কর্মচারী, পোশাক ও বস্ত্র খাতের শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমজীবীদের বোনাসও এ কর্মকা-ে যোগ হবে। এর প্রভাবে ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমল পর্যন্ত বেড়েছে বেচাকেনা। সামগ্রিকভাবে, উৎসবের এই বাড়তি চাহিদা ও অর্থের সরবরাহ গ্রামীণ অর্থনীতিকে দীর্ঘদিন পর নতুন করে চাঙ্গা করে তুলবে। যা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির গতিকে আরো সমৃদ্ধ করবে।