যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ: ট্রাম্পের সামনে এখন অগ্নিপরীক্ষা

64
অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হওয়ার পরই এই বার্তা দিয়েছে তেহরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরান জানায়, আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

 

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনার পর বিষয়টি এখন কারিগরি পর্যায়ে গড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাব ও খসড়া যাচাই-বাছাই করছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব আদান-প্রদান চলছে।

 

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি দল বর্তমানে প্রস্তাবগুলোর বাস্তব প্রভাব, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং বিভিন্ন ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া’ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। এই ধাপটি ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির ভিত্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

তবে সব ইস্যুতে এখনো একমত হতে পারেনি দুই পক্ষ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে পারমাণবিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের মূল দাবি হলো—ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে এবং সে ধরনের সক্ষমতা অর্জনের পথেও না এগোয়।

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্টভাবে কোন শর্ত ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে তা না জানালেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘স্পষ্ট ও ইতিবাচক অঙ্গীকার’ চায়। তার মতে, শুধু স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নিশ্চয়তা অর্জনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের পূর্ববর্তী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোর অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।