রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ৫টি জামাতসহ সারাদেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে একসাথে নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবারও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল ফিতরের জামাত। প্রায় ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লির উপস্থিতিতে বিশাল এই জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকা: যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আনন্দে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ৫টি জামাতসহ রাজধানীতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে একসাথে নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক জাতীয় ঈদগাহে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিচারপতিগণ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকবৃন্দ জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল। ঈদগাহ ময়দানে সাড়ে তিন সহস্র নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের সংরক্ষিত ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া ছিল পর্যাপ্ত ওজুখানাসহ মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমের সুবিধা।
মেঘলা আকাশ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের ঢল নামে। এদিন ভোর থেকেই রাজধানীর নানান প্রান্ত থেকে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। ঈদের জামাত শুরুর অনেক আগেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি জামাতের আগেই মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
প্রথম জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী এবং সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাতে ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন।
সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে ইমামতি করেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং বেলা পৌনে ১১টায় পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
এছাড়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে ইমামতি করেন ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক মনোনীত মাওলানা ক্বারী গোলাম মোস্তফা বিকল্প ইমাম হিসেবে ছিলেন মুফতি মাওলানা আতিকুর রহমান।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এই জামাতে নামাজ আদায় করেন এবং উপস্থিত নগরবাসীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জামাতে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে (দক্ষিণ প্লাজার নীচে) ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

একসঙ্গে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।
ঈদের প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক জাতীয় ঈদগাহে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিচারপতিগণ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকবৃন্দ জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল। ঈদগাহ ময়দানে সাড়ে ৩ হাজার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের জন্য সংরক্ষিত স্থানের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া ছিল পর্যাপ্ত ওজুখানাসহ মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমের সুবিধা।
নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে থেকেই দীর্ঘ লাইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা।
মেঘলা আকাশ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের ঢল নামে। এদিন ভোর থেকেই রাজধানীর নানান প্রান্ত থেকে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। ঈদের জামাত শুরুর অনেক আগেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
ঈদ জামাতে আসা মুসল্লিদের তিন জায়গায় তল্লাশি করার পর ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ছয় লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত

কিশোরগঞ্জ, ২১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবারও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল ফিতরের জামাত। প্রায় ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লির উপস্থিতিতে বিশাল এই জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পুরো এলাকা ছিল নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় নিশ্চিত করতে নেয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় জামাত।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বাসস’কে জানান, এত বড় সমাগম সত্ত্বেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তিনি বলেন, এবারের জামাত ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল আয়োজন।
ঈদের আগের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা কিশোরগঞ্জে আসতে শুরু করেন। অনেকেই খোলা আকাশের নীচে বা অস্থায়ীভাবে রাতযাপন করে ভোরেই ঈদগাহমুখী হন।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শটগানের ফাঁকা গুলির মাধ্যমে সংকেত দেয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় ঈদের নামাজ।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।
জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে শোলাকিয়ার এবারের ঈদ জামাত কেবল বড় সমাগমই নয়, বরং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ আয়োজনের এক সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।



