ঢাকাঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান এবং তাঁর নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রথমে তিনি বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর পর্যায়ক্রমে বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে মন্ত্রী ও পরে ৪টা ২৬ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। নয়া মন্ত্রী পরিষদে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া ২৫ জন আর ২৪ প্রতিমন্ত্রী জন।
পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জে ড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, শেখ রবিউল আলম, নিতাই রায় চৌধুরী, ফকির মাববুব আনাম।
এর আগে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেছেন। এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
মন্ত্রীদের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়। দীপেন দেওযান-পার্বত্য চট্টগ্রাম। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী- অর্থ ও পরিকল্পনা। আ ন ম এহসানুল হক মিলন-শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা। সালাহউদ্দিন আহমদ-স্বরাষ্ট্র। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ইকবাল হাসান মাহমুদ-বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ।
ফকির মাহবুব আনাম-ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক। শেখ রবিউল আলম- সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন। আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন-মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ।
মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ-কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য। আব্দুল আউয়াল মিন্টু-পরিবেশ, বন ও জলবায়ু। খলিলুর রহমান-পররাষ্ট্র। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ-ধর্ম।
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি-পানি সম্পদ। মিজানুর রহমান মিনু-ভূমি। আসাদুল হাবিব দুলু-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। নিতাই রায় চৌধুরী- সংস্কৃতি বিষয়ক। মো. আসাদুজ্জামান-আইন, বিচার ও সংসদ। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির-বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট। জাকারিয়া তাহের- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত। আরিফুল হক চৌধুরী-শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান। জহির উদ্দিন স্বপন-তথ্য ও সম্প্রচার। আফরোজা খানম রিতা- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন।
প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যরিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।
আজকের ঐতিহাসিক স্থানটি প্রায় ১ হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথিতে উপচে পড়েছিল, এবং তাদের মধ্যে অনেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সরকার প্রধান হিসেবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও তাঁদের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে তাকে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রথমে তারেক রহমান জাতীয় সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন।
১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের সময় ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
এর আগে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মিছিল করে তরুণদের নেতা তারেক রহমানের প্রশংসা করে স্লোগান দিতে থাকে।




