“হেয়ারকাট বিতর্ক, কর মওকুফ প্রশ্নে ক্ষোভ: ব্যাংক গ্রাহকদের উপর বোঝা চাপানো কি ন্যায্য?”

218

ঢাকাঃ এবার ৪% “হেয়ারকাট” বন্ধের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ কঠোর কর্মসূচির কথাও বলছেন, যেমন সরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান। তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। তাই দাবি আদায়ে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথই বেশি কার্যকর।

এদিকে আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—ড. ইউনূস দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো কর মওকুফ হয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত? যদি কর ছাড় দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সরকার কি আয়কর আদায় থেকে বঞ্চিত হয়নি? এতে কি রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় কমেনি? আর সেই আর্থিক সুবিধার বোঝা শেষ পর্যন্ত কে বহন করেছে—রাষ্ট্র, নাকি পরোক্ষভাবে জনগণ?

অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকদের ন্যায্য মুনাফা থেকে “হেয়ারকাট” দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে দুর্নীতির দায় ব্যবস্থাপনা বা সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীদের, সেখানে কেন সাধারণ গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ কেটে ক্ষতি পোষানো হবে—এ প্রশ্ন এখন জনমনে জোরালো।

এই প্রেক্ষাপটে অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন, যদি গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ দেওয়া হয়, তাহলে অতীতে দেওয়া কর মওকুফ বা বিশেষ সুবিধাগুলোও পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায় করা উচিত। রাষ্ট্রের নীতি হওয়া উচিত ন্যায্যতার ভিত্তিতে—যেখানে দায় যার, বোঝাও তার।

সব মিলিয়ে, আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্য আর্থিক নীতি—যাতে জনগণ মনে না করে যে একপক্ষ সুবিধা পায়, আর অন্যপক্ষ শুধু বোঝা বইছে।সাবেরা শরমিন হক