অনলাইন ডেস্কঃ
তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন এসেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেটে দুই অলির মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ১৬ ঘণ্টার ভ্রমণে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুট্টাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জনসভায় বক্তব্য দিয়ে ভোররাতে তিনি বাসায় ফেরেন।
এদিকে ভাসানটেকের জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান একজন ভ্যানচালক, নারী শ্রমিক ও একজন কলেজছাত্রীকে ডেকে মঞ্চে আনেন। একে একে তাঁদের কাছে জানতে চান ভাসানটেক এলাকায় কী কী সমস্যা আছে। এ এলাকার কী কী উন্নয়ন করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘এক বোন বলে গেছেন তাঁর সঙ্গে কী হয়েছে। আমরা অতীতে যেতে চাই না। বিগত ১৬ বছর কী হয়েছে দেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, উপস্থিত এ জনসভার মানুষ নয়, সমগ্র দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। সবার সঙ্গে আমিও চাই মানুষের সমস্যার সমাধান, চলাফেরায় নিরাপত্তা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীরা যেন মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ পায়। লাখ লাখ তরুণ ও যুবসমাজ কর্মহীন। তারা বেকার সমস্যার সমাধান চায়। এই যে কজন মানুষ আপনাদের হয়ে কথা বলেছেন, তাদের কথায় বেরিয়ে এসেছে কর্মসংস্থান দরকার। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি দেশের বহু মানুষ বিদেশে যায়। এ মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। তাদের বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব, যাতে উচ্চ বেতনের চাকরি পায়। স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।’
এ সময় একটি ফ্যামিলি কার্ড পকেট থেকে বের করে উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এ রকম একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি মায়ের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। যে নারীর একটি সংসার আছে তার কাছে আমরা কার্ডটি পৌঁছে দেব। আমরা একই সঙ্গে দেশের কৃষককে একটি কৃষি কার্ড দিতে চাই। যেটার মাধ্যমে সহজে তারা কৃষিঋণ পাবেন। কৃষি ইনস্যুরেন্স থাকবে, যার মধ্যে সার-বীজ পাবেন।’
পাশে বসা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমিনুল হক ফুটবল খেলতেন। আমাদের দেশের তরুণ-যুবক যারা আছেন, সবাই আর ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার হবেন না। এখানে অনেকে আছেন খেলোয়াড় হতে চান। আমরা দেশের ক্রীড়াব্যবস্থা এমনভাবে ঢেলে সাজাব, যাতে ছেলে-মেয়েরা পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে জীবিকা অর্জন করতে পারেন। সেই প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করতে চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়তে হবে। দেশের প্রতিটি খাত বিগত ১৬ বছরে ধ্বংস হয়েছে। ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। সেগুলো পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয় তাহলে এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, তাহলে এলাকার সমস্যা তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। বিগত ১৬ বছরে যে আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছিল, তখন কি নির্বাচিত তথাকথিত এমপির কাছে আপনারা সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছিলেন? যাওয়া সম্ভব হয়নি। সে জন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান ও উন্নয়ন যদি চান, তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণ কী চায় এমপিদের অবশ্যই জানতে হবে। জবাবদিহি থাকতে হবে। আজকে আমি যেভাবে আপনাদের সমস্যার কথা জানতে চেয়েছি, আমার প্রত্যাশা— জনপ্রতিনিধি যারা নির্বাচিত হবেন, এভাবে জনগণের কাছে গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করবেন। পরে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ এলাকার মূল সমস্যার পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে চাইলে অবশ্যই আগামী দিনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এ জন্য সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে।’
এ সময় উপস্থিত সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ধানের শীষ যতবার নির্বাচিত হয়েছে, ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছি। একই সঙ্গে অনুরোধ করছি, আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে। আপনাদের আত্মীয়-স্বজন যারা সারা দেশে ছড়িয়ে আছেন, তাদেরও অনুরোধ করবেন ১২ তারিখে যেন ধানের শীষে ভোট দেন।’
ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এ জনসভা হওয়ার কথা ছিল দুপুর আড়াইটায়। পরে সময় পরিবর্তন করে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। সরেজমিন দেখা যায়, আসরের নামাজের আগে থেকেই বিআরবি মাঠে বিএনপির নেতাকর্মী ও ভোটার আসতে শুরু করেন। মাগরিবের আগেই মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হওয়ায় মাঠে অনেকে আসতে পারেননি। তারা আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।



