মেধা না থাকলে শিক্ষা ধ্বংস হয়: শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার অপরিহার্যতা

89

শিক্ষার ক্ষেত্রে নিয়োগকে কোনোভাবেই বাণিজ্যে পরিণত করা যাবে না—কারণ শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, এটি একটি জাতির নৈতিকতা, মনন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রধান মাধ্যম। যখন শিক্ষক নিয়োগে অর্থ, তদবির বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে, তখন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ভেঙে পড়ে। অযোগ্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত করে, সৃজনশীলতা নষ্ট করে এবং সমাজে অদক্ষ ও নৈতিকতাহীন প্রজন্ম তৈরি করে।

শিক্ষক হচ্ছেন জাতি গঠনের কারিগর। তাই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একমাত্র মানদণ্ড হতে হবে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও নৈতিক সততা। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়—সব স্তরে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। লিখিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক মূল্যায়ন ও মৌখিক পরীক্ষার সমন্বয়ে কঠোর প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদের উত্তীর্ণ করে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

মেধাবীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা মানে শুধু ভালো ফল করা নয়; এর সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষাদানের সক্ষমতা, গবেষণামুখী চিন্তা ও নৈতিক দায়বদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে। এতে করে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হবে এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

যে দেশে শিক্ষাব্যবস্থা মেধাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত, সে দেশই টেকসই উন্নয়ন ও আলোকিত সমাজ গড়তে সক্ষম হয়। তাই শিক্ষায় নিয়োগ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে মেধাবীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই হতে হবে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও শক্তিশালী বাংলাদেশের