কৃষির পাশাপাশি শিল্পায়ন: টেকসই আঞ্চলিক উন্নয়নের পথ

203

কৃষি ও শিল্পায়নের সমন্বয়ে টেকসই আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্ভব, যেখানে কৃষি কাঁচামাল সরবরাহ করে এবং শিল্প তা প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে, যা কৃষি প্রক্রিয়াকরণ (Agro-industrialization) নামে পরিচিত; এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ে, কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বৈচিত্র্য আসে, যা প্রযুক্তি ও পলিসির সঠিক সমন্বয়ে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথ খুলে দেয়। 

 

কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে সংস্কারের ভাবনা ও করণীয়

 

সাবেরা শরমিন হকঃ দেশের কোনো একটি এলাকাকে কৃষির পাশাপাশি শিল্পোন্নত অঞ্চলে রূপান্তর করতে হলে সেখানে কিছু মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত উপাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এসব উপাদান একে অপরের পরিপূরক এবং শিল্প বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

প্রথমত, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা থাকতে হবে। কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, যেমন—এগ্রো ফ্যাক্টরি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ কিংবা হালকা ও মাঝারি শিল্প পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, নদী, খাল ও নালা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। এটি যেমন কৃষি সেচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ এবং পরিবহন সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখে। নৌপথ থাকলে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হয়।

তৃতীয়ত, রাস্তাঘাট, সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নত হতে হবে। শিল্পের কাঁচামাল আনা ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য সড়ক, মহাসড়ক ও ব্রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের সুব্যবস্থা থাকলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে।

চতুর্থত, যাতায়াত ও লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নিকটবর্তী রেললাইন, নদীবন্দর, স্থলবন্দর কিংবা মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ থাকলে শিল্প বিকাশ দ্রুত হয়।

পঞ্চমত, দক্ষ ও পর্যাপ্ত মানবসম্পদ (ম্যানপাওয়ার) থাকা আবশ্যক। স্থানীয় জনগণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুললে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তি সহজেই পায়।

এই সব বিষয় যদি একটি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ও সমন্বিতভাবে উপস্থিত থাকে, তাহলে সেখানে কৃষি পণ্যের পাশাপাশি এগ্রো-ভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্পূর্ণ সম্ভব। এভাবেই একটি অঞ্চল ধীরে ধীরে কৃষিনির্ভর এলাকা থেকে কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত উন্নয়ন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।