আয়ারল্যান্ড যদিও অপেক্ষাকৃত দূর্বল প্রতিপক্ষ; তবু বলতে হয় টেস্ট ক্রিকেটে স্বপ্নীল একটা দিন পার করল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই প্রতিপক্ষের দুই উইকেট তুলে দিয়ে নিজেরা স্রেফ এক উইকেট হারিয়ে পার করে দিল পুরো দিন। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিশতকের কাছে মাহমুদুল হাসান জয়। সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছেন মুমিনুল হক। শতকের সম্ভাবনা জাগিয়ে আউট হয়েছেন সাদমান ইসলাম।
সিলেট প্রতিনিধিঃ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৩৮ রান। ব্যাটিং বান্ধব কন্ডিশনের সুযোগ নিয়ে ১৬৯ রানে ব্যাট করছেন জয়, ৮০ রানে মুমিনুল। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে এসেছে ১৭০ রান। হাতে ৯ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড ৫২ রানের।
ব্যাট হাতে দিনের শুরুটা করে আয়ারল্যান্ড। খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। দ্বিতীয় দিন তারা মাত্র ১৪ বল টিকতে পারে। সফরকারীদের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৮৬ রানে।
হাসান মাহমুদের করা দিনের প্রথম ওভারে দুটি বাউন্ডারি মারেন ব্যারি ম্যাককার্থি। তাইজুল ইসলামের করা পরের ওভারে উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। এলবিডব্লিউর শিকার হন ম্যাথু হামফ্রিজ। এক প্রান্ত আগলে রাখা ব্যারি ম্যাককার্থিকে পরের ওভারেই দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে আয়ারল্যান্ডকে গুটিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।
৬৪ বলে চারটি চারে ৩১ রান করেন ম্যাককার্থি। ক্রেইগ ইয়াং অপরাজিত থাকেন ৬ রানে।
দিনের পরের গল্পটা মাহমুদুল হাসান জয়কে কেন্দ্র করে। আর পার্শ নায়কের ভূমিকায় ছিলেন সাদমান ও মুমিনুল।
২০২২ সালের সেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে করেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। দীর্ঘ তিন বছর ও ৩০ ইনিংস পর আবারও তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন জয়।
দিনের তৃতীয় সেশনে ১৯০ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জয়। দেশের মাটিতে যা প্রথম। জর্ডান নিলের বলে গালি দিয়ে বাউন্ডারিতে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন এই ওপেনার।
শুরু থেকেই তাড়াহুড়া না করে ব্যাট করেছেন সময় নিয়ে। ৭২ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। পরে হয়ে যান আরও সাবধানী। পরের পঞ্চাশ করেছেন ১১৮ বলে।
২০২২ সালের মার্চে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন জয়, ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। পরের ৩০ ইনিংসে তিনি করতে পারেন কেবল তিনটি ফিফটি। এনসিএলের প্রথম রাউন্ডে সেঞ্চুরি করে ছন্দে ফেরার আভাস দেওয়া ২৪ বছর বয়সী ওপেনার এবার টেস্টেও পেলেন সেঞ্চুরি ছোঁয়া।
তবে সেঞ্চুরি করে থেমে থাকেননি জয়। একশ পেরিয়ে পরের ফিফটি করেন ৭৫ বলে। দিন শেষে ২৮৩ বলে ১৬৯ রানের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কায়।
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৮০ রান করে ফিরেছেন আরেক ওপেনার সাদমান। ম্যাথু হামফ্রিজের বলে কাট করতে গিয়ে ব্যাটের নিচের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি। ভাঙে ২৪৮ বল স্থায়ী ১৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।
১০৪ বলে নয় চার ও এক ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান সাদমান।
এরপর জয়ের সঙ্গে যোগ দেন মুমিনুল। জয়ের মতো তিনিও করছেন সাবধানী ব্যাটিং। ৭৫ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২৩তম ফিফটি। দিন শেষে এই টপঅর্ডার ১২৪ বলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৮০ রানে অপরাজিত আছেন।
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২৭০/৮) ৯২.২ ওভারে ২৮৬ (ম্যাককার্থি ৩১, হামফ্রিজ ০, ইয়াং ৬*; হাসান ১৩.২-৪-৪২-২, নাহিদ ১৪-০-৬৫-১, তাইজুল ২২-৬-৭৮-২, মুরাদ ২০-৫-৪৭-২, মিরাজ ২৩-৬-৫০-৩)।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩৩৮/১ (জয় ১৬৯*, সাদমান ৮০, মুমিনুল ৮০*; ম্যাককার্থি ৮-১-৩৪-০, ইয়াং ৭-০-২৭-০, ম্যাকব্রিন ২৪-৫-৯৩-০, নিল ৮-০-৩৮-০, হামফ্রিজ ২৩-০-৭৮-১, ক্যাম্ফার ৬-০-৩৫-০, টেক্টর ৯-১-৩১-০)।


