ঢাকাঃ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ – তিন আমলেই অভিনয় করা মানুষ মাসুদ আলী খান। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র – তিন মাধ্যমেই বিচিত্র সব চরিত্রে অভিনয় করে হয়ে উঠেছিলেন সবার চেনা। গুণী অভিনেতা মাসুদ আলী খান আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ৩১ অক্টোবর, ২০২৪ইং দুপুরে ঢাকায় নিজ বাসায় মৃত্যু হয় এই বরেণ্য অভিনেতার।
১৯২৯ সালের ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশন স্থাপিত হওয়ার পর পর নূরুল মোমেনের নাটক ‘ভাই ভাই সবাই’ দিয়ে ছোট পর্দায় মাসুদ আলী খানের অভিষেক। আর সাদেক খানের ‘নদী ও নারী’ দিয়ে বড় পর্দায় হাতেখড়ি। এই চলচ্চিত্রে নায়ক আসগর চরিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন। এরপর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে একের পর এক বৈচিত্র্যময় নানা চরিত্র করে চেনামুখ হয়ে ওঠেন মাসুদ আলী খান।
১৯৫৬ সালে গড়ে ওঠে নাট্যদল ‘ড্রামা সার্কেল’। এটিকে বলা হয় ঢাকার প্রথম আধুনিক নাট্যদল। প্রায় শুরু থেকেই দলটির সঙ্গে ছিলেন মাসুদ আলী খান। ড্রামা সার্কেলের হয়ে রক্তকরবী, বহিপীর, রাজা ও রাণী, ইডিপাস, আর্মস অ্যান্ড দ্য ম্যান, দৃষ্টি সহ বহু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি কখনো কখনো নাট্য পরিচালনাও করেছেন তিনি। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে বাংলা একাডেমি মঞ্চে তার পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তাসের দেশ’।
কর্মজীবনে তিনি সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পরে অবশ্য বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন আরও এক যুগ।
মাসুদ আলী খান ১৯৫৫ সালে তাহমিনা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যাক্তি জীবনে এই দম্পত্বি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
২০২৩ সালে শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করেন। পেয়েছেন ‘মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা ২০২৪’।
প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।


